রোজা রাখার নানা স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে। তবু দিনভর না খেয়ে থাকার কারণে শরীর ক্লান্ত লাগা স্বাভাবিক। দীর্ঘ সময় উপোস থাকলে সাময়িক দুর্বলতা দেখা দিতে পারে। তবে সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তন আনলে পুরো রমজানজুড়ে সুস্থ ও প্রাণবন্ত থাকা সম্ভব। চলুন জেনে নেওয়া যাক, রোজায় শক্তি ধরে রাখতে কী করবেন—
১. সেহরিতে স্মার্ট খাবার বেছে নিন
সেহরি শুধু পেট ভরানোর অনুষ্ঠান না, এটা সারাদিনের জ্বালানি। জটিল কার্বোহাইড্রেট যেমন হোল গ্রেইন রুটি বা বাদামি চাল, সঙ্গে প্রোটিন যেমন ডিম বা পনির রাখুন। স্বাস্থ্যকর চর্বির জন্য অল্প অ্যাভোকাডো বা বাদাম ভালো। কলা যোগ করলে বাড়তি শক্তি মিলবে। অতিরিক্ত লবণ আর গভীর ভাজা খাবার এড়িয়ে চলুন, নইলে সারাদিন তৃষ্ণায় কাহিল হবেন। আর পানি… হ্যাঁ, সেটাই আসল নায়ক। যথেষ্ট পানি না খেলে পরে আফসোস ছাড়া কিছুই থাকবে না।
২. মৃদু ব্যায়াম করুন
রোজার প্রথম কয়েক দিন শক্তি কম লাগতেই পারে। তখন সারাদিন সোফায় লেপ্টে থাকা সমাধান না। হালকা হাঁটা, কিছু স্ট্রেচিং বা সহজ শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম শরীরকে চাঙা রাখবে। জিমে গিয়ে রেকর্ড ভাঙার দরকার নেই, আপনি অলিম্পিকে নাম লেখাচ্ছেন না।
৩. ঘুমের সময় ঠিক করুন
ইফতার, তারাবি, সেহরি—সব মিলিয়ে ঘুমের রুটিন এলোমেলো হয়ে যায়। সম্ভব হলে একটু আগে ঘুমাতে যান বা নির্দিষ্ট সময় ধরে রাখার চেষ্টা করুন। ঘুম কম হলে ক্লান্তি এমনিতেই বাড়বে। শরীরের ওপর অতিরিক্ত বীরত্ব দেখানোর দরকার নেই।
৪. ঠান্ডা পরিবেশে থাকুন
গরমে রোজা রাখা আলাদা চ্যালেঞ্জ। সম্ভব হলে ফ্যান বা এয়ার কন্ডিশনিং থাকা পরিবেশে থাকুন। বেশি রোদে ঘোরাঘুরি এড়িয়ে চলুন। পানিশূন্যতার লক্ষণ যেমন মাথা ঘোরা বা অতিরিক্ত দুর্বলতা দেখা দিলে অবহেলা করবেন না, দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
রোজা আত্মসংযম শেখায়, আত্মনির্যাতন না। শরীরের যত্ন নিলে পুরো মাসই শক্তি ধরে রাখা সম্ভব। নিজেকে একটু গুরুত্ব দিলে ক্ষতি নেই, পৃথিবী ঠিকই ঘুরতে থাকবে।