দুর্নীতিতে জিরো টলারেন্স: ভূমি প্রতিমন্ত্রী

সংবাদপত্র প্রতিবেদক
 ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন নেত্রকোনা-১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদুর রহমানের সভাপতিত্বে উপজেলা পরিষদ হলরুমে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। 

এতে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধিসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।                

মতবিনিময় সভায় প্রতিমন্ত্রী কায়সার কামাল বলেন, আমি আমার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখব যেন কলমাকান্দাকে একটি দৃষ্টিনন্দন, পরিকল্পিত ও আদর্শ উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে পারি। 

সীমান্তবর্তী এই উপজেলায় মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, সীমান্ত এলাকা ও কলমাকান্দা সদর এলাকায় মাদকের যে সমস্যা রয়েছে, তা কঠোরভাবে মোকাবিলা করতে হবে। মাদকপ্রবণ ও অপরাধপ্রবণ স্থানগুলো চিহ্নিত করে সেখানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, নজরদারি জোরদার এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তিনি।

তিনি বলেন, সরকারের ঘোষিত ১৮০ দিনের কর্মসূচি বাস্তবায়নে সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে আন্তরিকতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

ভূমি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আমরা যে বিভাগেই কাজ করি না কেন, শেষ ঠিকানা কিন্তু সাড়ে তিন হাত ভূমি। এই উপলব্ধি নিয়ে যদি আমরা কাজ করি, তাহলে অনেক কাজই সহজ হয়ে যাবে। তিনি আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে অর্জিত যোগ্যতা ও দায়িত্বের মর্যাদা রক্ষা করার আহ্বান জানান।

মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, কলমাকান্দা-দুর্গাপুরের সর্বসাধারণ ভোটারদের প্রতি তার কৃতজ্ঞতা। তাদের ভোট না পেলে আজ আমি এই জায়গায় দাঁড়াতে পারতাম না। 

ভূমি মন্ত্রণালয় নিয়ে অতীতে বিভিন্ন সমালোচনা ও প্রশ্নের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, সারা দেশেই এ মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম নিয়ে নানা আলোচনা রয়েছে। তাই প্রথম অগ্রাধিকার হবে মন্ত্রণালয়ের ইমেজ পুনরুদ্ধার এবং সেবা প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব করা। 

তিনি বলেন, দুর্নীতির ব্যাপারে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।  

খাল, পুকুর ও জলাশয় পুনরুদ্ধার প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনায় এ বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ইতোমধ্যে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে বৃক্ষরোপণ ও খাল খনন কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। 

তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে বহু পুকুর ও জলাশয় বেদখল হয়ে গেছে কিংবা অনিয়মিতভাবে লিজ দেওয়া হয়েছে। যেসব জলাশয় লিজ দেওয়ার কথা নয়, সেগুলো ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত স্বার্থে দখল বা লিজ দেওয়া হয়ে থাকলে তা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হারানো ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, আমরা একটি নির্বাচিত সরকার হিসেবে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ। সরকার শুধু কোনো দলের নয়, এটি জনগণের সরকার। জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস। উন্নয়ন কার্যক্রমে গণমাধ্যম, প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের সমন্বিত অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

এলাকার খবর

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত