শীতকালে সাধারণত বিদ্যুৎ ব্যবহারের ধরন অনেকাংশে পরিবর্তিত হয়ে যায়। গরম কাপড়ের পাশাপাশি হিটার, গিজার, ইলেকট্রিক কেটলি ও রুম হিটারের ব্যবহার বাড়ে। এসব যন্ত্র আরাম দিলেও বিদ্যুৎ বিল উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিতে পারে। তবে কিছু সহজ কৌশল মেনে চললে শীতের স্বস্তি বজায় রেখেই বিদ্যুৎ খরচ অনেকটা কমানো সম্ভব।
শীতে বিদ্যুৎ খরচ কমানোর কার্যকর ৫ কৌশল—
১. প্রাকৃতিক আলো ও তাপের সর্বোচ্চ ব্যবহার
শীতে দিনের আলো কম থাকলেও প্রাকৃতিক আলো ঘরে ঢোকার সুযোগ তৈরি করুন। দিনের বেলায় পর্দা ও জানালা খোলা রাখলে আলো ও তাপ—দুটিই পাওয়া যায়। এতে অপ্রয়োজনে লাইট জ্বালাতে হয় না এবং ঘর তুলনামূলক উষ্ণ থাকে। বিকালের পর জানালা বন্ধ রাখলে ঘরের ভেতরের তাপ সংরক্ষণ হয়।
২. এনার্জি-সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি ব্যবহার
পুরোনো বাল্ব, হিটার বা গিজার সাধারণত বেশি বিদ্যুৎ খরচ করে। তাই এলইডি বাল্ব ও এনার্জি-স্টার রেটেড ইলেকট্রনিক যন্ত্র ব্যবহার করুন। স্মার্ট পাওয়ার প্লাগ বা মাল্টি-প্লাগ ব্যবহার করলে একসঙ্গে একাধিক যন্ত্রের বিদ্যুৎ ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয়।
৩. হিটার ব্যবহারে সচেতনতা
রুম হিটার শীতে আরামের বড় উৎস হলেও এটি বিদ্যুতের অন্যতম বড় খরুচে যন্ত্র। প্রয়োজন ছাড়া হিটার চালু রাখবেন না। ব্যবহারকালে দরজা-জানালা বন্ধ রাখুন এবং ঘরের আকার অনুযায়ী কম ক্ষমতার হিটার বেছে নিন। রাতভর হিটার চালানো এড়িয়ে চলুন। হিটারের বিকল্প হিসাবে উষ্ণ পোশাক ও কম্বল ব্যবহার করলে বিদ্যুৎ খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে।
৪. গিজারের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখুন
গিজারের তাপমাত্রা অযথা বেশি রাখলে বিদ্যুৎ খরচ বাড়ে। মাঝামাঝি তাপমাত্রা নির্ধারণ করুন এবং শুধু প্রয়োজনের সময় গিজার চালু রাখুন। সারাদিন গিজার অন রেখে দেওয়া বিদ্যুৎ অপচয়ের অন্যতম কারণ।
৫. অপ্রয়োজনীয় যন্ত্র বন্ধ রাখুন
টিভি, চার্জার, রাউটার ও মাইক্রোওভেন স্ট্যান্ডবাই মোডেও বিদ্যুৎ খরচ করে। তাই ব্যবহার না করলে সরাসরি সুইচ বন্ধ রাখুন। মাল্টি-প্লাগের মূল সুইচ অফ করুন এবং চার্জ শেষ হলে মোবাইল বা ল্যাপটপ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করুন। এতে মাস শেষে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদ্যুৎ সাশ্রয় সম্ভব।
শীতকালে একটু সচেতন হলেই বিদ্যুৎ খরচ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। অপ্রয়োজনীয় যন্ত্র ব্যবহার এড়িয়ে চলা ও এনার্জি-সাশ্রয়ী ডিভাইস ব্যবহারে বিদ্যুৎ বিল কমে। একই সঙ্গে আরাম বজায় রেখে সাশ্রয়ী জীবনযাপন করা যায়।