পটুয়াখালীর চারটি সংসদীয় আসনে এবার ভোটার সংখ্যা ১৫ লাখ ছাড়িয়েছে। মোট ১৫ লাখ ৯ হাজার ৫৮৯ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে আগামীর নতুন বাংলাদেশের প্রতিনিধি নির্বাচনে অংশ নিতে যাচ্ছেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৭ লাখ ৬১ হাজার ৯৮৬ জন, নারী ভোটার ৭ লাখ ৪৭ হাজার ৫৮৫ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১৮ জন।
পুরো জেলায় স্থায়ী ভোটকেন্দ্র রয়েছে ৫১৩টি, অস্থায়ী কেন্দ্র ২৪৬টি এবং মোট ভোটকক্ষের সংখ্যা ৩ হাজার ১৩৬টি। আটটি উপজেলা ও পাঁচটি পৌরসভা জুড়ে এই নির্বাচনী আয়োজন ঘিরে এখন চরম ব্যস্ততা ও ভোটের উত্তেজনা।
চার আসনের মধ্যে পটুয়াখালী-১ (সদর, মির্জাগঞ্জ ও দুমকী) আসনে ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৫ হাজার ৮৩৫ জন। পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনে ৩ লাখ ১৫ হাজার ২৮২ জন, পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা ও দশমিনা) আসনে ৩ লাখ ৭৫ হাজার ৮৭১ জন এবং পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া ও রাঙ্গাবালী) আসনে ৩ লাখ ১২ হাজার ৬০১ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। পুরো জেলায় ইউনিয়ন সেনা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড রয়েছে ৭৭টি, যা নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এবারের নির্বাচনের একটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো নতুন ভোটার। চারটি আসন মিলিয়ে প্রায় ৮০ হাজারের মত নতুন ভোটার এবারই প্রথম ভোট দিতে যাচ্ছেন। বয়সে তরুণ এই ভোটারদের চোখেমুখে উচ্ছ্বাস, প্রত্যাশা আর পরিবর্তনের স্বপ্ন স্পষ্ট।
পটুয়াখালী সদর উপজেলার নতুন ভোটার কলেজছাত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, ‘জাতীয় পরিচয়পত্র হাতে পাওয়ার পর থেকেই ভোট দেওয়ার অপেক্ষায় ছিলাম। এবার প্রথমবার নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারব—এটা আমার জন্য গর্বের ও আনন্দের।’
বাউফল উপজেলার নতুন ভোটার রাকিব হোসেন বলেন, ‘অনেক বছর ধরে বড়দের ভোট দিতে দেখেছি। এবার নিজের ভোট নিজে দেব। উন্নয়ন আর কর্মসংস্থান—এই দুই বিষয় মাথায় রেখেই সিদ্ধান্ত নেব।’
গলাচিপার দশমিনা উপজেলার নতুন ভোটার মাদ্রাসা শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘আমরা চাই শান্তিপূর্ণ নির্বাচন। ভোট যেন সঠিকভাবে দিতে পারি এবং আমাদের ভোটের মূল্য যেন থাকে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’
কলাপাড়া উপজেলার রাঙ্গাবালীর চর মোন্তাজের নতুন ভোটার জেলে পরিবারের সন্তান সোহেল মাঝি বলেন, ‘আমাদের এলাকায় নদীভাঙন, নিরাপত্তা আর কাজের সংকট বড় সমস্যা। যে প্রার্থী এসব নিয়ে কথা বলবে, তাকেই ভোট দেব।’
নতুন ভোটারদের এই আগ্রহ ও অংশগ্রহণ নির্বাচনকে বাড়তি মাত্রা দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। রাজনীতি অভিজ্ঞরা বলছেন, তরুণ ভোটারদের অংশগ্রহণ ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করে।
সব মিলিয়ে পটুয়াখালীর চারটি আসনে লক্ষাধিক ভোটার ও বিপুলসংখ্যক নতুন ভোটারের অংশগ্রহণে নির্বাচন শুধু প্রতিনিধি নির্বাচনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; এটি হয়ে উঠেছে নতুন প্রজন্মের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের দিকনির্দেশনা নির্ধারণের এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।