ডিহাইড্রেশন নাকি হিটস্ট্রোক— বুঝবেন কীভাবে, কোনটির ঝুঁকি বেশি

সংবাদপত্র প্রতিবেদক
 ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

তীব্র গরমে ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা এবং হিটস্ট্রোক—দুটিই মারাত্মক ঝুঁকি হতে পারে। তবে হিটস্ট্রোক অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ও প্রাণঘাতী। আর ডিহাইড্রেশন হলো— হিটস্ট্রোকের প্রাথমিক লক্ষণ। কারণ ডিহাইড্রেশনে মানুষ তৃষ্ণার্ত থাকে, ঘামতে পারে এবং পানি খেলে বা ছায়ায় বিশ্রাম নিলে অবস্থার উন্নতি হয়। কিন্তু হিটস্ট্রোক হলো— একটি মেডিকেল ইমারজেন্সি, যেখানে শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা পুরোপুরি ভেঙে পড়ে।

যদি দেখেন কেউ ঘেমে ক্লান্ত হওয়ার বদলে শুকনো গরম ত্বক নিয়ে বিভ্রান্ত আচরণ করছেন বা জ্ঞান হারাচ্ছেন, তবে তা হিটস্ট্রোকের লক্ষণ এবং অবিলম্বে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।

আর যতটা ফ্লুইড শরীরে ঢুকছে, তার থেকে বেশি ফ্লুইড শরীর থেকে বের হয়ে গেলে বুঝবেন ডিহাইড্রেশন। অর্থাৎ শরীর পানিশূন্য হয়ে পড়ে। অন্যদিকে মারাত্মক গরম থেকে হিটস্ট্রোক হয়, যখন শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। ডিহাইড্রেশনের থেকে হিটস্ট্রোক আরও বেশি ক্ষতিকারক। এতে মৃত্যুও হতে পারে।

ডিহাইড্রেশনের ক্ষেত্রে শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক বা সামান্য বেশি থাকতে পারে। কিন্তু হিটস্ট্রোকের ক্ষেত্রে শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত বেড়ে যায়, ১০৪° ফ্যারেনহাইটের ওপরে পৌঁছে যায়। এর মানে হচ্ছে— আপনার শরীরের প্রাকৃতিক 'কুলিং সিস্টেম' ব্যর্থ হয়েছে। হিটস্ট্রোকে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা প্রয়োজন।

আর ডিহাইড্রেশনে শরীরে তরলের পরিমাণ কমে যায়, ফলে কম ঘাম হয়। অন্যদিকে হিটস্ট্রোকের ক্ষেত্রে শুরুতে ঘাম বেশি হতে পারে, কিন্তু পরিস্থিতি জটিল হলে ঘাম একেবারে বন্ধ হয়ে যেতে পারে। প্রচণ্ড গরমে ঘাম না হওয়া বিপদের, একেবারেই অবহেলা করবেন না।

ডিহাইড্রেশনে তীব্র তৃষ্ণা, মুখ শুকিয়ে যাওয়া এবং আঠালো লালা তৈরি হয়। হিটস্ট্রোকের ক্ষেত্রে এ লক্ষণগুলোও দেখা যেতে পারে, তবে এর সঙ্গে বিভ্রান্তি ও দুর্বলতাও থাকে। অতিরিক্ত শুষ্কতার সঙ্গে স্নায়বিক লক্ষণ দেখা দিলে তা শুধু তরলের ঘাটতি নয়, বরং এমার্জেন্সি পরিস্থিতির ইঙ্গিত দেয়।

ডিহাইড্রেশনের ফলে হালকা ক্লান্তি, বিরক্তি বা মাথাব্যথা হতে পারে। কিন্তু হিটস্ট্রোকের ক্ষেত্রে বিভ্রান্তি, দিশাহারা ভাব, জড়িয়ে কথা বলা— এমনকি অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো গুরুতর লক্ষণ দেখা যায়। তীব্র দাবদাহে আচমকা যদি মানসিক অবস্থার পরিবর্তন লক্ষ্য করেন, তবে সেটি জটিল পরিস্থিতির ইঙ্গিত।

আবার ডিহাইড্রেশনে ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়, ইলাস্টিসিটি কমে যায়। হিটস্ট্রোকের ক্ষেত্রে ত্বক সাধারণত গরম, লালচে এবং শুষ্ক হয়ে যায়, অথবা শুরুতে স্যাঁতসেঁতে লাগতে পারে।

ডিহাইড্রেশনে শরীরে রক্তসঞ্চালন বজায় রাখতে হৃদস্পন্দন বেড়ে যায়। হিটস্ট্রোকের ক্ষেত্রে হৃদস্পন্দন অত্যন্ত দ্রুত হয়ে ওঠে এবং নিঃশ্বাসের কষ্ট দেখা দেয়।

 

এলাকার খবর

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত