আপনার শরীর সুস্থ রাখতে সব ধরনের খাবার খাওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে ভিটামিন ও খনিজজাতীয় খাবার খুবই প্রয়োজন। তার মধ্যে ম্যাগনেশিয়ামও রয়েছে। এই খনিজ আপনার শরীরে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা এবং স্নায়ুতন্ত্রের কার্যকারিতা বাড়াতে বেশি কার্যকর।
কারণ আপনার শরীরে এই খনিজের ঘাটতি থাকলে অনেক সময় মানসিক অবসাদেও ভুগতে হয়। অনেকেই ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতি পূরণে নিয়মিত সাপ্লিমেন্ট খেয়ে থাকেন। আপনি চাইলে অনেক খাবারের মাধ্যমেই ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতি পূরণ করতে পারেন। সাধারণত আপনার প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় এক মুঠো কাঠবাদাম খেলেই ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব। এক মুঠো কাঠবাদামে প্রায় ৮০ মিলিগ্রাম ম্যাগনেশিয়াম পাওয়া যায়।
এ ছাড়া আরও কয়েক ধরনের খাবারে ম্যাগনেশিয়াম পুষ্টি পাওয়া যায়। এই যেমন পালংশাক। এতে ম্যাগনেশিয়ামের পাশাপাশি আয়রন, ক্যালশিয়ামসহ আরও অন্যান্য ভিটামিন পাওয়া যায়। এক কাপ রান্না করা পালংশাকে প্রায় ১৫৭ মিলিগ্রাম ম্যাগনেশিয়াম পাওয়া যায়।
আর ম্যাগনেশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার পাওয়া যায় ওটসে। সে জন্য আপনার প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় এক বাটি করে ওটস রাখতে পারেন। কারণ এক কাপ রান্না করা ওটসে রয়েছে ৫৭-৬০ গ্রাম ম্যাগনেশিয়াম। ওটসের সঙ্গে আমন্ড, কুমড়ার দানা মিশিয়ে খেলে ম্যাগনেশিয়ামের পরিমাণও বাড়ে। আর এ খাবার সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য ভীষণ উপকারী।
আবার কুমড়ার দানা ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতি পূরণ করতে পারে। প্রতিদিন এক চামচ কুমড়ার দানা খেতে পারেন। কারণ মাত্র ৫০ গ্রাম কুমড়ার দানায় ১৩১ মিলিগ্রাম ম্যাগনেশিয়াম পাওয়া যায়, যা কাঠবাদামের চেয়ে দ্বিগুণ। আর এই বীজে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট পাওয়া যায়, যা হৃৎপিণ্ড ও মেটাবলিক স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য।
এ ছাড়া কালো রাজমা খেতে পারেন। যে কোনো ধরনের রাজমা ও ডাল স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। তবে ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতি মেটাতে কালো রাজমা ভীষণ কার্যকরী। কারণ এক কাপ রান্না করা কালো রাজমার মধ্যে ১২০ মিলিগ্রাম ম্যাগনেশিয়াম পাওয়া যায়। আর রাজমায় কাঠবাদামের মতো প্রোটিনও পাওয়া যায়।
আবার ডার্ক চকোলেটও ম্যাগনেশিয়ামে ভরপুর রয়েছে। কারণ ১ আউন্স বা ২৮ গ্রাম ডার্ক চকোলেটের মধ্যে ৬৫ মিলিগ্রাম ম্যাগনেশিয়াম পাওয়া যায়। তাই আমন্ড ও ডার্ক চকোলেট একসঙ্গে খেতে পারেন।