বাংলাদেশ
কেমন হতে পারে বিএনপির মন্ত্রিসভা,আলোচনায় যারা। ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১৪:৪৭
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। সরকার গঠনকে ঘিরে ইতোমধ্যেই দলীয় ও রাজনৈতিক অঙ্গণে শুরু হয়েছে প্রস্তুতি। এর অংশ হিসেবে তারেক রহমান তার ঘনিষ্ঠ আর দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছেন।
বিএনপি সূত্রে জানা যায়, এবারের মন্ত্রিসভায় দলের সিনিয়র নেতাদের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি গুরুত্ব দেওয়া হবে নবীনদেরও। ফলে অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের সমন্বয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ মন্ত্রিসভা গঠনের ইঙ্গিত মিলছে।
তবে এর আগে শপথ নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। জাতীয় সংসদের নির্বাচিত ২৯৭ আসনের প্রার্থীদের এ শপথ ১৭ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হতে পারে। ওই দিন সকালে তাদের শপথ পড়াবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন।
সংবিধান অনুযায়ী, নতুন সরকার গঠনের শুরুটা হবে নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথ গ্রহণের মাধ্যমে। সংসদ সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়োগ নিবেন রাষ্ট্রপতি। প্রধানমন্ত্রী শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। এরপর নতুন প্রধানমন্ত্রী তার নেতৃত্বে মন্ত্রিসভা গঠন শুরু করবেন। নতুন মন্ত্রিসভা কত সদস্যবিশিষ্ট হবে সেটা নির্ধারণ করবে নির্বাচনে বিজয়ী দল।
বিএনপির দলীয় সূত্র বলছে, নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়ন, প্রশাসনে গতি আনা, নীতিনির্ধারণে নতুন ভাবনা এবং নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টি করতেই তরুণদের অন্তর্ভুক্তির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে দলটির অভ্যন্তরে মন্ত্রী পরিষদ গঠন নিয়ে আলোচনা চলছে। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিষয়টি দেখভাল করছেন। দুই-একদিনের মধ্যে বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে। কারা কারা থাকছেন তা আগাম বলা কঠিন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার-১ আসন থেকে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, বিএনপির কেমন মন্ত্রিসভা হতে যাচ্ছে, তা দেখার জন্য দেশবাসীকে অল্প সময় অপেক্ষা করতে হবে।
আলোচনায় যারা
বিএনপির ২০০১-২০০৬ সরকারের সময়ের বেশ কয়েকজন মন্ত্রীকে এবারের মন্ত্রী পরিষদেও রাখার কথা ভাবছে বিএনপি। এ বিষয়ে বিএনপির দলীয় সূত্র জানায়, বিএনপির বিগত সরকারের সময়ে যে সব মন্ত্রণালয় বিতর্কের ঊর্ধ্বে ছিলো, পরিচ্ছন্নদের নতুন সরকারের বিভিন্ন দায়িত্বে রাখা হবে।
এদের মধ্যে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি অথবা উপ-রাষ্ট্রপতির মতো জায়গায় দেখা যেতে পারে। মন্ত্রণালয়ে স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে দেখা যেতে পারে। সালাহউদ্দিন আহমেদ গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন। এছাড়া আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে পররাষ্ট্র অথবা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে দেখা যেতে পারে। বিএনপির স্থায়ী কমিটর সদস্য ড. এজেডএম জাহিদ হোসেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার আলোচনায় আছেন। মন্ত্রীর দায়িত্ব পেতে পারেন আব্দুল আউয়াল মিন্টুও। এছাড়াও মন্ত্রী পরিষদে থাকছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। আ ন ম এহসানুল হক মিলনকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিষয়ে ভাবা হচ্ছে।
অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় পেতে পারেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসাবে দেখা যেতে পারে। টেকনোক্র্যাটে মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. জিয়াউদ্দিন হায়দারও।
মন্ত্রিপরিষদে থাকছেন নবীনরা
নতুন মন্ত্রিপরিষদে যুক্ত হচ্ছে একাধিক নতুন মুখ। দলের নতুন নেতৃত্ব তৈরি করতে আধুনিক শিক্ষায় উচ্চ শিক্ষিত তরুণদের যুক্ত করা হবে। সম্ভাবনাময়ী এমন কয়েকজনকে মন্ত্রী পরিষদে রাখা হচ্ছে। এদের মধ্যে বিএনপির সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় (টেকনোক্র্যাট), চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ইসমাইল জবিউল্লাহকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় (টেকনোক্র্যাট), যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে, সাবেক অ্যাটর্নী জেনারেল অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান আইন মন্ত্রণালয়, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির পররাষ্ট্রমন্ত্রী (টেকনোক্র্যাট) হিসাবে আলোচনায় আছেন। এছাড়া শ্যামা ওবায়েদ, সাবেক মেয়র আরিফুর রহমান চৌধুরী, মিয়া নুরুদ্দিন আহমেদ অপু, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, তানভীর আহমেদ রবীন (টেকনোক্র্যাট), শহীদুল ইসলাম বাবুল, হাবিবুর রশীদ হাবিব, সাঈদ আল নোমানও মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন।
মন্ত্রী পরিষদে থাকবেন যুগপৎ আন্দোলনের শরিকরা
কয়েক বছর আগেই আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দাবি ও যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলো নিয়ে জাতীয় সরকারের ঘোষণা দিয়েছিলো বিএনপি। ফলে নতুন মন্ত্রিপরিষদে থাকছে যুগপৎ আন্দোলনের একাধিক নেতা। দলটির নেতারা বলছেন, দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে যারা একসঙ্গে ছিল, সরকার গঠন প্রক্রিয়াতেও তাদের অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করা হবে। অংশগ্রহণমূলক ও প্রতিনিধিত্বশীল কাঠামোর মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনর্গঠন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণই হবে এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। এদের মধ্যে রয়েছে- বিএনপিতে যোগ দেয়া ড. রেজা কিবরিয়াকে অর্থ মন্ত্রণালয়, জোনায়েদ সাকিকে প্রতিমন্ত্রী, এনডিএম ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দেওয়া ববি হাজ্জাজ, বিজেপির ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নুরু ও টেকনোক্র্যাট কোটায় ১২ দলীয় জোট প্রধান ও জাতীয় পার্টির (জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, মাহমুদুর রহমান মান্নার নামও শোনা