কালিয়াকৈরে আ.লীগ নেতার বাড়িতে হামলা-লুটপাট

সংবাদপত্র প্রতিবেদক
 ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় এক  আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় উপজেলার মধ্যপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন তুলার বাড়িতে এ হামলা চালানো হয়।  

প্রত্যক্ষদর্শী ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যায় ২৫ থেকে ৩০ জন লোক রামদা, কুড়াল ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায়। এ সময় বাড়িতে কোনো পুরুষ সদস্য না থাকায় এমদাদের স্ত্রী নার্গিস বেগম ও দুই পুত্রবধূ পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যান। 

হামলাকারীরা ঘরে ঢুকে আসবাবপত্র ভাঙচুর ও তছনছ করে। হামলায় নগদ সাত থেকে আট লাখ টাকা এবং প্রায় ১৬ থেকে ১৭ ভরি স্বর্ণ লুট করে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ সময় পরিবারের সদস্যদের চিৎকার ও স্থানীয় মাদ্রাসার মসজিদ থেকে মাইকিং করা হলে স্থানীয়রা জড়ো হতে শুরু করে। পরে হামলাকারীরা সঙ্গে আনা অস্ত্র ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।

পরিবারের অভিযোগ, মধ্যপাড়া ইউনিয়নের জিয়া মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক তুষার ইমরানের নেতৃত্বে এ হামলা হয়েছে। 

তবে জিয়া মঞ্চের নাম ব্যবহার করে এমন কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে মধ্যপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির নেতারা।

এমদাদের ছেলে তরুণ বলেন, তুষার ইমরানের নেতৃত্বে ২৫ থেকে ৩০ জনের একটি দল বাড়িতে ঢুকে নিচতলা ও দোতলার আটটি কক্ষে থাকা চারটি আলমারি ও আটটি ওয়ারড্রোব ভাঙচুর করে। নগদ সাত থেকে আট লাখ টাকা ও ১৫ থেকে ১৬ ভরি স্বর্ণ লুট করে নিয়ে যায়।

এ দিকে ঘটনার কিছুক্ষণ পরই মধ্যপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। 

মধ্যপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব আব্বাস হোসেন বলেন, জিয়া মঞ্চের নাম ব্যবহার করে তুষার বিভিন্ন অপকর্ম করে যাচ্ছে। আমরা এ হামলার তীব্র নিন্দা জানাই। তার এমন কর্মকাণ্ডের দায় বিএনপি নেবে না। তাকে গ্রেফতারের দাবি জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত তুষার আহম্মেদ বলেন, ঘটনার বিষয়ে আমি কিছু জানি না। কয়েকদিন আগে এমদাদ হোসেন তুলা মিয়ার দুই ছেলে ও তাদের সহযোগীরা আমার অফিসে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছে। এখন তারা নিজেরাই নিজেদের বাড়ি ভাঙচুর করে আমার ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করছে।

কালিয়াকৈর উপজেলা জিয়া মঞ্চের সভাপতি রফিক মৃধা বলেন, জিয়া মঞ্চের নাম ব্যবহার করে কেউ অপকর্ম করে থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মৌচাক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শামীম আক্তার বলেন, ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তবে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আনোয়ার হোসেন বলেন, জিয়া মঞ্চ বিএনপির অঙ্গ সংগঠন নয়। তাদের কোনো অপকর্মের দায় বিএনপি নেবে না। যারা এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঘটিয়েছে, তাদের আইনের আওতায় আনা উচিত।

বিষয়:

কালিয়াকৈর
এলাকার খবর

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত