রমজান শুরু হতে আর বাকি একদিন। এর মধ্যেই বেড়েছে নিত্যপণ্যের দাম। সাভারে পাইকারী থেকে খুচরা কাচাবাজারে শসা, লেবু, কাচামরিচ, বেগুন, ধনিয়াপাতা, খেজুরসহ সব ধরনের ফলের দাম বেড়েছে। গত কয়েক দিনের ব্যবধানে প্রতিটি পন্যে কেজিতে ২০ টাকা করে বেড়ে গেছে। কৃত্রিম সংকটের কথা বলে বরাবরের মতো এবারো বাড়ানো হচ্ছে নিত্যপন্যের দাম।
ইফতার সামগ্রীর দাম বাড়ায় মধ্যবৃত্তের যারা পুরো মাসের বাজার একসঙ্গে করেন তাদের অনেকে পরিমাণ ও পন্য তালিকা কাটাছাট করে ১০-১৫ দিনের বাজার করছেন। রোজার শুরুতে দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন সাধারণ মানুষ। বাজারে কোনো ধরনের মনিটরিং না থাকায় পাইকারী ও খুচরা বাজারে ইচ্ছেমতো বাড়ানো হচ্ছে পন্যের দাম।
এ প্রসঙ্গে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ বিভাগ) সেবাষ্টিন রেমা যুগান্তরকে বলেছেন, বাজারে রুটিন অভিযান চলছে। রোজা শুরু হলে অভিযান-তদারকি বাড়ানো হবে। তারা নিজেদের আইন মোতাবেক ব্যবস্থা নিয়ে থাকেন। পাশপাশি জেলা প্রশাসন ও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করতে পারে।
সাভারের অন্যতম বড় বাজার ‘নামাবাজারে’ লেবু বিক্রি হয় কেজি দরে। সেখানে এক কেজি লেবু ২০০ টাকা দরে বিক্রি হয়। নামা বাজারের কাঁচামালের দোকানদার মো. আকবর জানান, দুইদিন আগে লেবুর কেজি ছিল ১৭০ টাকা। আরেক ব্যবসায়ী মো. মিজানুর রহমান জানান, শসা ১২০ টাকা কেজি, টমেটো ৫০ টাকা কেজি, খিরাই ৮০ টাকা কেজি, কাঁচামরিচ ১৮০ টাকা কেজি, পেঁয়াজ ৫৫ টাকা কেজি, বেগুন ৮০ টাকা কেজি। ধনেপাতা ১০ টাকা আটি। তিনি বলেন, এসব পন্য মঙ্গলবার ২দিন আগের তুলনায় প্রতি কেজি ১০টাকা বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এই বাজারের অনেক বিক্রেতা বলেন, কেজি প্রতি আলু ২০ টাকা, আদা ১৪০ টাকা ও রসুন ১৬০ টাকা। কাচামাল ব্যবসায়ী সাইদুল ইসলাম বলেন, সব কিছুর দাম প্রতি কেজিতে হুহু করে বাড়ছে। আরেক ব্যবসায়ী মো. শরিফুল আলম বলেন, করলা ১০০ টাকা কেজি। যা গত রোববারের তুলনায় প্রতি কেজিতে ২০ টাকা বেশি।
মুদি দোকানদার শফিক ইসলাম জানান, কেজি প্রতি চিনি ১০০ টাকা, ছোলা ৯০ টাকা, ডাবলি ৫৫ টাকা ও গুড় ২০০ টাকা দরে কেনা বেচা চলছে। যা গত সপ্তাহের চেয়ে দাম বেশি।
সাভার পৌরসভার গেন্ডা কাচাবাজারে দুইদিন আগে লেবুর দাম ছিল প্রতি কেজি ১৮০ টাকা। আজ মঙ্গলবার লেবু বিক্রি হয় ২০০ টাকায়। কাচামাল বিক্রেতা মো. রফিক জানান, টমেটো ৫০ টাকা কেজি, যা গত রোববারের চেয়ে ১০ টাকা বেশি।
ব্যবসায়ী ফারুক জানান, কাঁচা মরিচের দাম ১৬০ টাকা কেজি। অপর বিক্রেতা মো. এনামুল বলেন, গত রোববারের তুলনায় কাঁচা মরিচের দাম প্রতি কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে। এই বাজারে শসা ১২০ টাকা, খিরাই ৮০ টাকা, করলা ১৩০ টাকা, বেগুন ৮০ টাকা, আলু ২০ টাকা এবং পেঁয়াজ ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, যা বাড়তির দিকে।
ক্রেতা মো. মিজানুর রহমান জানান, বেগুনের দাম আজ মঙ্গলবার প্রতি কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে। আবার বিক্রেতা বাবুল বলেছেন, চলতি সপ্তাহের তুলনায় করলার দাম প্রতি কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে।
ব্যবসায়ী মো. রাকিব জানান, আদা ১৪০ এবং রসুন ১৮০ টাকা কেজি। বাজার করতে আসা মো. শাকিল জানান, আদা রসুনের দাম প্রতি কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে।
মুরগির বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার ১৯০ টাকা, সোনালি ৩২০ টাকা, সোনালি হাইব্রিড ২৮০ টাকা, খাসি মুরগি ৩৭০ টাকা এবং লেয়ার ২৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতা ফয়সাল জানান, লেয়ারসহ মুরগীর দাম প্রতি কেজিতে ১৫ টাকা বেড়েছে। এদিকে রোজায় ইফতারে খেজুরের চাহিদা বাড়ে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত ৩৭ হাজার ৯৩১ টন খেজুর আমদানি হয়েছে। বাজারে বিভিন্ন ধরনের খেজুর রয়েছে।
ঢাকার বাদামতলীতে ফলের পাইকারী বাজার থেকে আনা আজওয়া, মরিয়ম, মাবরুম, কলমি, আম্বার, শুক্কারি, গাবাস, নাখাল, বড়ই এখন খেজুর নামে বিক্রি হচ্ছে। এখান থেকে ছড়িয়ে যাচ্ছে সারাদেশে। গুনগত মান ও প্রকারভেদে প্রতি কেজি মরিয়ম ও আজওয়া ৬০০ থেকে এক হাজার টাকায় এবং ভালো মানের মেডজুল খেজুর এক হাজার থেকে এক হাজার ৩০০ বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে উন্নত মানের খেজুর যায় ধনীদের ঘরে। ব্যাবাসায়ীরা বলেন, পাইকারী বাজারে দাম বাড়ায় সাভারেও বেড়েছে খেজুরের দাম কেজিতে ৫০/৬০ টাকা।
ক্রেতারা জানান, সাভারে ঘনবসতি বেশি হওয়ায়, বাজারে পন্যের চাহিদা ৩০ গুন বেড়েছে, রমজান উপলক্ষে এ চাহিদা আরও বাড়ছে। তাই বাজারের চাহিদার সঙ্গে দামও বাড়ছে। তবে ক্রেতারা জানান, বাজার মনিটরিং এ কোন সংস্থা বা উপজেলা কর্মকর্তাদের কোন মনিটরিং না থাকায় এ অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে।