মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ময়মনসিংহ নগরীর মাসকান্দা, বাইপাস ও পাটগুদাম ব্রিজ এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
যাত্রীদের অভিযোগ, ঢাকা-ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন রুটে গণপরিবহনে কয়েকগুণ বেশি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। যেখানে সাধারণ সময়ে ইউনাইটেড সার্ভিসে ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ ভাড়া ৩২০ টাকা, সৌখিন পরিবহনে ২০০ টাকা এবং অন্যান্য পরিবহনে ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা নেওয়া হয়, সেখানে বর্তমানে আদায় করা হচ্ছে ৩০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত।
ঢাকা ফেরত গার্মেন্টস কর্মী আকলিমা জানান, “বেতন না পেলেও চার দিনের ছুটিতে পরিবার দেখতে আর ভোট দিতে বাড়ি যাচ্ছি। কিন্তু মুক্তাগাছা যাওয়ার পথে ময়মনসিংহ বাইপাস পর্যন্ত আসতেই ৭০০ টাকা ভাড়া দিতে হয়েছে।”
গাজীপুর থেকে আসা যাত্রী নজরুল ইসলাম বলেন, “১৫০ টাকার ভাড়া ৫০০ টাকা দিয়ে আসতে হয়েছে।”
অসুস্থ গৃহকর্মী সেলিনা বেগমের অভিযোগ, “২৫০ টাকার ভাড়া ৬০০ টাকা নিয়েছে।”
একইভাবে ময়মনসিংহের অভ্যন্তরীণ রুটেও ৫০ টাকার ভাড়া ১০০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে বলে জানান যাত্রীরা।
অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও হয়রানির ঘটনায় ভোট দিতে আসা ভোটারদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। যাত্রীদের অভিযোগের বিষয়ে রাজিব পরিবহনের এক চালক বলেন, “দুই-তিন দিনের ব্যবসাই মূল। সবাই বেশি নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি।”
ইমাম পরিবহনের এক চালক সরাসরি জানান, “১৫০ টাকার ভাড়া ৫০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে, এটা এক-দুই দিন চলবেই।”
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে পুলিশ অবগত রয়েছে এবং মাঠে কাজ করছে। চালকদের যাত্রীদের কাছ থেকে নেওয়া অতিরিক্ত ভাড়া ফেরত দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যাত্রী হয়রানি করলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং নৈরাজ্য রোধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।