জিয়াউর রহমানের আমলে প্রথম ওষুধনীতি প্রণয়ন করা হয়: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

সংবাদপত্র প্রতিবেদক
 ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, বিশ্ব বাজারে বাংলাদেশ ব্যাপকভাবে ওষুধ রপ্তানি করবে এটা আমাদের জন্য সুখবর। বাংলাদেশ বিশ্বে ওষুধ রপ্তানি করার সুযোগ পেয়েছে কারণ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রথম ওষুধনীতি প্রণয়ন করে বিশ্বে বাংলাদেশের ওষুধ রপ্তানি উদ্বোধন করে গেছেন। 

বুধবার (১৩ মে) বিকালে গাজীপুরের টঙ্গীতে নেভিয়ান লাইফসায়েন্স পিএলসি কর্তৃক আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

কানাডায় ওষুধ রপ্তানিতে নেভিয়ানের এ সাফল্যের ভূয়সী প্রশংসা করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের রপ্তানি-বৈচিত্র্য বৃদ্ধিতে ওষুধ শিল্প একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খাত। এই খাতে দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জনে সুইজারল্যান্ড ভিত্তিক স্যান্ডোজের সঙ্গে অংশীদারিত্বে নেভিয়ানের এ উদ্যোগটি একটি রোল মডেল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। বিদেশে ওষুধ রপ্তানির এ উদ্যোগ বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পের ক্রমবর্ধমান শক্তির বহিঃপ্রকাশ। রপ্তানি ঝুড়ি সম্প্রসারণ এবং বিশ্ববাজারে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে এ ধরনের আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

স্বাগত বক্তব্যে নেভিয়ানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুসাওয়াত শামস জায়েদী বলেন, নতুন নামে নেভিয়ান হিসেবে যাত্রা শুরুর সময় বাংলাদেশে নোভার্টিসের গুণগত মান ধরে রাখার যে প্রতিশ্রুতি আমরা দিয়েছিলাম, বহুজাতিক কোম্পানির হয়ে কানাডার মতো দেশে ওষুধ রপ্তানির মধ্য দিয়ে তা আজ পূর্ণতা পেল। এমন বহুদেশীয় অংশীদারিত্বে চুক্তি ভিত্তিক উৎপাদন ও রপ্তানিতে নেভিয়ানই প্রথম।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রেডিয়েন্ট ফার্মাসিউটিক্যালসের চেয়ারম্যান মো. নাসের শাহরিয়ার জাহেদি বলেন, ১৯৭৬ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়েই ঐতিহাসিক ফার্মাসি অর্ডন্যান্স প্রণয়নের মাধ্যমে ওষুধ শিল্পের ভিত্তি রচিত হয়। যার ফলেই বাংলাদেশ আজ ওষুধে স্বয়ংসম্পূর্ণ। পরবর্তীতে ১৯৯৪ সালে প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ওষুধ শিল্পের উন্নয়নে যে পরিকল্পনা ও নীতিমালা প্রণয়ন করেন, বর্তমান সরকার সেই নীতিমালাকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও আধুনিকায়নের মাধ্যমে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং ওষুধ শিল্পের অগ্রযাত্রায় দেশকে বহুদূর এগিয়ে নেবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এম মঞ্জুরুল করিম রনি, মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মনোয়ার হোসেন ও রেডিয়েন্ট ফার্মাসিউটিক্যালসের চেয়ারম্যান নাসের শাহরিয়ার জাহিদি।

অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী এবং স্যান্ডোজ কানাডার সাপ্লাই প্ল্যানিং বিশেষজ্ঞ স্যাম্পসন ল্যাম। 

আয়োজক প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বলা হয়, বাংলাদেশ থেকে কানাডায় ওষুধ রপ্তানির ঐতিহাসিক মাইলফলক উদযাপন করল নেভিয়ান লাইফ সায়েন্স পিএলসি (সাবেক নোভার্টিস বাংলাদেশ লিমিটেড)। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক শীর্ষ বহুজাতিক জেনেরিক ওষুধ কোম্পানি স্যান্ডোজের সঙ্গে চুক্তিভিত্তিক উৎপাদন ব্যবস্থার অধীনে এ রপ্তানি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রথম দফায় স্যান্ডোজ এজি, সুইজারল্যান্ডের ক্রয়াদেশে নেভিয়ানের টঙ্গীপ্ল্যান্টে উৎপাদিত একাধিক ওষুধ আমদানি করছে স্যান্ডোজ কানাডা, ইনক। একই চুক্তির আওতায় রপ্তানি গন্তব্যের তালিকায় পরবর্তীতে যুক্ত হতে চলেছে স্যান্ডোজের অধিভুক্ত ইউরোপসহ উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার কয়েকটি দেশ।

আরও বলা হয়, কোনো শীর্ষস্থানীয় বহুজাতিক কোম্পানির হয়ে কানাডাসহ উত্তর-আমেরিকার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত বাজারে বাংলাদেশ থেকে এমন ওষুধ রপ্তানি এই প্রথম। সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, উন্নত বিশ্বের দেশগুলোতে বাংলাদেশের ওষুধ রপ্তানির বাজার সম্প্রসারণ করতে হলে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর সঙ্গে এমন অংশীদারিত্বই সবচাইতে কার্যকর হবে। সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশে নোভার্টিসের শেয়ার হাত বদলের মধ্য দিয়ে নেভিয়ান নামে যাত্রা শুরুর পর এই অর্জনকে প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোক্তারা নেভিয়ানের উৎপাদন ও মান নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সক্ষমতা ও গ্রহণযোগ্যতার পরিচায়ক। 

এলাকার খবর

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত