ব্যাংকগুলো ‘খালি হয়ে গেছে’: অর্থমন্ত্রী

সংবাদপত্র প্রতিবেদক
 ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আগের সরকারের সময়ে আর্থিক খাতে অনেক বেশি রাজনীতিকীকরণ করার ফলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো ‘খালি হয়ে গেছে’। অর্থনীতির সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আওয়ামী শাসনামল থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের সময়কালও ‘খুব বেশি যে ভালো’ ছিল না।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) বিকালে সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনায় অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, এজন্য একদম প্রান্তিক মানুষের কাছে সরকারের সেবা ও সহযোগিতা পৌঁছে দিতে বিএনপি সরকার ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষি কার্ড দিচ্ছে। একই সঙ্গে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বাজেটে বরাদ্দ বাড়িয়ে ‘ডেমোগ্রাফিক ডেভিডেন্ড’ বাড়াতে কাজ করার পরিকল্পনাও তুলে ধরেন তিনি। যার প্রতিফলন আগামী অর্থবছরেই দেখা যাবে বলে তার ভাষ্য।

উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর মুদ্রানীতি 

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে মুদ্রা সরবরাহ সীমিত রাখা জরুরি। অতীতে টাকা ছাপিয়ে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার কারণে অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হয়েছে, যা সুদের হার বাড়িয়েছে এবং বেসরকারি খাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। আমরা এমন একটি নীতিতে আছি, যেখানে হাই পাওয়ার মানি বাড়িয়ে বাজারে অতিরিক্ত তারল্য তৈরি করা হবে না। এতে মূল্যস্ফীতি বাড়ে এবং অর্থনীতির ভারসাম্য নষ্ট হয়।

অর্থনীতির বর্তমান চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে আমির খসরু বলেন, ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলার অভাব, মুদ্রার অবমূল্যায়ন ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে বেসরকারি খাত চাপে রয়েছে। অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান ‘আন্ডার পারফর্ম’ করছে। এছাড়া বিনিয়োগ বাড়াতে ডিরেগুলেশন প্রয়োজন। ব্যবসা করতে এত বাধা থাকলে বিনিয়োগ আসবে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে পারলে আয় বেড়ে যায়

স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় কমাতে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের কথাও তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী বলেন, আউট অব পকেট এক্সপেন্ডিচার বেশি হলে পরিবারের জীবনমান কমে যায়। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে পারলে মানুষের আয় কার্যত বেড়ে যায়।

ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) এবং স্টার্টআপ খাত অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সবচেয়ে বড় এমপ্লয়ার হচ্ছে এসএমই খাত। এ খাতের পাশাপাশি গ্রামীণ কুটিরশিল্প, কারিগর ও সৃজনশীল শিল্প (ক্রিয়েটিভ ইকোনমি) অর্থনীতির মূলধারায় আনতে সরকার কাজ করছে।

টাকা ছাপানোর কথা নাকচ করলেন গভর্নর ও অর্থমন্ত্রী

বাংলাদেশ ব্যাংক টাকা ছাপিয়ে সরকারকে ঋণ দিচ্ছে, সম্প্রতি গণমাধ্যমে এমন সংবাদ প্রকাশিত হয়। তবে, বিষয়টিকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে নাকচ করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। একই দিনে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীও এ ধরনের খবরকে অস্বীকার করেছেন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে গভর্নর মোস্তাকুর রহমান বলেন, টাকা ছাপানোর বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। বাংলাদেশ ব্যাংক এ ধরনের কোনো নীতি অনুসরণ করছে না।

একই আলোচনায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীও টাকা ছাপানোর বিষয়টি নাকচ করে বলেন, এ ধরনের নীতি অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর। টাকা ছাপিয়ে স্থানীয় ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার প্রবণতা থেকে অর্থনীতিকে বের করে আনতে হবে। এতে সুদের হার বাড়ে এবং বেসরকারি খাত চাপে পড়ে।

তিনি আরও বলেন, উচ্চমাত্রার মুদ্রা সরবরাহের মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখাই সরকারের মূল নীতি। 

একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে অর্থনীতি একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর হাতে কেন্দ্রীভূত হয়েছিল, যা এখন পরিবর্তনের পথে রয়েছে।

এলাকার খবর

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত