বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলনকেন্দ্রে শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় বসেছিল মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কারের ২৭তম আসর। সেখানেই নগরবাউল ব্যান্ড দলের সংগীতশিল্পী জেমসকে বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের বিশেষ সম্মাননা স্মারক তুলে দেন প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান ও স্কয়ার টয়লেট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অঞ্জন চৌধুরী।
সাধারণত কনসার্ট ছাড়া কোনো আয়োজনে পাওয়া যায় না এ কিংবদন্তি ব্যান্ড সংগীতশিল্পীকে। জানতে চাওয়া হয় কেন কনসার্টের বাইরে আয়োজন এড়িয়ে চলেন তিনি। এমন প্রশ্নে নগরবাউল স্বভাবসুলভ উত্তর দেন— ‘যাই না আরকি’।
সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় অনুষ্ঠানে পৌঁছান নগরবাউল জেমস। কালো টি-শার্টের সঙ্গে মাথায় পরিচিত গামছা। সোজা ঢুকে যান গ্রিনরুমে। রুমে ঢুকেই এয়ারকন্ডিশনের তাপমাত্রা নিয়ে মজা করে তিনি বলেন, ‘এ তো সাইবেরিয়ায় চলে এলাম।’ এরই মাঝে আশপাশ থেকে বাকি সদস্যরা রুমে ঢোকেন। তারাও বলে ওঠেন— ‘ঠান্ডায় জমে গেছি ভাই। তাই হেঁটে এলাম।’
ব্যান্ডের সদস্যদের কাছে খবর নিয়ে চেয়ার টেনে বসে পড়েন আড্ডায়। মঞ্চের বাইরে পর্দায় জেমস যতটা মিতভাষী, এ দিন আড্ডায় যেন তিনি ছিলেন তার উল্টো— দেশ, রাজনীতি, অর্থনীতি থেকে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ, তেলসংকট— সব কিছুই উঠেছে আড্ডায়।
আড্ডার মধ্যেও নগরবাউলের মাথায় ছিল মঞ্চে ওঠার তাড়া। গিটারিস্ট ইসমামুল ফরহাদ এলিনকে বারবার জিজ্ঞেস করছিলেন সব ঠিকঠাক কি না। ইসমামুল জানান, সব ঠিক আছে। সাউন্ড চেক হয়ে গেছে, মঞ্চে গেলেই হয়ে যাবে।
এরই মাঝে ব্ল্যাক কফি, স্যান্ডউইচ আর কেক খান জেমস। খাবারের ফাঁকে ফাঁকে অনুষ্ঠানের বিভিন্ন কিছু জানতে চান তিনি। মঞ্চে এখন কী হচ্ছে। আর কতক্ষণ পর উঠতে হবে, দর্শক কেমন এসেছে।
হঠাৎ ডাক পড়ে মঞ্চ থেকে। মঞ্চ তৈরি, এখনই উঠতে হবে। মুখপাত্র রুবাইয়াত ঠাকুর রবিনকে নিয়ে হাঁটা দেন জেমস। মঞ্চে তখন জেমসের জনপ্রিয় তিন গানে পারফর্ম করছিলেন— শুভ, কিশোর ও ইমরান। মঞ্চের পেছনে বসে শুনছিলেন নগরবাউল।
ইমরানের গানের পরেই মঞ্চে ওঠেন জেমস। আর চারদিকে তখন দর্শকদের শিস-করতালি। সাউন্ডটা একটু চেক করে, আগত দর্শকদের শুভসন্ধ্যা জানান তিনি। ‘বাহ, অনেক মানুষ হয়েছে নাকি’— বলছিলেন নগরবাউল জেমস। এরপরই দরাজ কণ্ঠে জেমস গেয়ে ওঠেন— ‘সুন্দরীতমা আমার/ তুমি নীলিমার দিকে তাকিয়ে/ বলতে পারো/ এই আকাশ আমার।’
জেমসের পরিবেশনার পরই সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। এরপর সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় মেরিল-প্রথম আলোকে ধন্যবাদ দিয়ে জেমস বলেন, ‘অর্ধেক হয়েছে, আরও অর্ধেক বাকি আছে।’ মঞ্চ থেকে নামার সময় সম্মাননা স্মারকের ওজন নিয়েও খুনসুটি করেন এ কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী। বলেন, ‘ওজন তো ভালোই।’