পরীক্ষায় সফলতার জন্য দোয়া ও করণীয়

সংবাদপত্র প্রতিবেদক
 ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

পরীক্ষা প্রতিটি শিক্ষার্থীর জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটি যেমন মেধা ও যোগ্যতা যাচাইয়ের মাধ্যম, তেমনি ধৈর্য, অধ্যবসায় ও মানসিক স্থিরতারও পরীক্ষা। ইসলামের দৃষ্টিতে সফলতার মূল চাবিকাঠি হলো— সর্বোচ্চ পরিশ্রম করা এবং ফলাফলের জন্য আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রাখা। মহান আল্লাহ বলেন—

يْسَ لِلْإِنسَانِ إِلَّا مَا سَعَى

‘মানুষ তাই পায়, যার জন্য সে চেষ্টা করে।’ (সুরা নাজম: আয়াত ৩৯)

দুনিয়ার এই ক্ষুদ্র পরীক্ষাগুলো আমাদের আখিরাতের বড় পরীক্ষার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। তাই পড়াশোনার পাশাপাশি আল্লাহর সাহায্য কামনায় দোয়া ও আমল করা প্রতিটি মুমিন শিক্ষার্থীর দায়িত্ব।

পরিশ্রম ও আল্লাহর ওপর ভরসা

পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের জন্য পরিশ্রমের কোনো বিকল্প নেই। যারা অলসতা পরিহার করে নিয়মিত ও পরিকল্পিতভাবে পড়াশোনা করে, আল্লাহ তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করেন। আল্লাহ তাআলা বলেন—

وَلِكُلٍّ دَرَجَاتٌ مِمَّا عَمِلُوا

‘প্রত্যেকের জন্য রয়েছে তার কর্ম অনুযায়ী মর্যাদা।’ (সুরা আহকাফ: আয়াত ১৯)

তবে কেবল পরিশ্রমই যথেষ্ট নয়; সফলতার জন্য প্রয়োজন আল্লাহর রহমত। রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন কোনো কঠিন বিষয়ের সম্মুখীন হতেন, তখন ‘সালাতুল হাজত’ আদায় করতেন। (আবু দাউদ ১৩১৯)

অতএব, পরীক্ষার আগে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ে আল্লাহর সাহায্য চাওয়া অত্যন্ত বরকতময় আমল।

পরীক্ষায় ভালো করার কয়েকটি বিশেষ দোয়া

১. জ্ঞান বৃদ্ধির দোয়া

رَبِّ زِدْنِي عِلْمًا

উচ্চারণ: রাব্বি যিদনী ইলমা।

অর্থ: ‘হে আমার প্রতিপালক! আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করো।’ (সুরা ত্বহা: আয়াত ১১৪)

২. বক্ষ প্রশস্ত ও জড়তা দূর করার দোয়া

رَبِّ اشْرَحْ لِي صَدْرِي وَيَسِّرْ لِي أَمْرِي وَاحْلُلْ عُقْدَةً مِّن لِّسَانِي يَفْقَهُوا قَوْلِي

উচ্চারণ: ‘রাব্বিশরাহলি সাদরি, ওয়া ইয়াসসিরলি আমরি, ওয়াহলুল উক্বদাতাম মিল লিসানি, ইয়াফকাহু কাওলি।’

অর্থ: ‘হে আমার পালনকর্তা! আমার বক্ষ প্রশস্ত করে দাও, আমার কাজ সহজ করে দাও এবং আমার জিহ্বার জড়তা দূর করে দাও, যাতে মানুষ আমার কথা বুঝতে পারে।’ (সুরা ত্বহা: আয়াত ২৫–২৮)

৩. কঠিন কাজ সহজ করার দোয়া

اللَّهُمَّ لَا سَهْلَ إِلَّا مَا جَعَلْتَهُ سَهْلًا، وَأَنْتَ تَجْعَلُ الْحَزْنَ إِذَا شِئْتَ سَهْلًا

উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা লা সাহলা ইল্লা মা জা‘আলতাহু সাহলান, ওয়া আনতা তাজ‘আলুল হাজনা ইযা শি’তা সাহলান।’

অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আপনি যা সহজ করেন তা ছাড়া কিছুই সহজ নয়; আপনি চাইলে কঠিন বিষয়ও সহজ করে দেন।’ (ইবনে হিব্বান ৯৭৪)

৪. দ্বীনের জ্ঞান ও প্রজ্ঞার দোয়া

اللَّهُمَّ فَقِّهْنِي فِي الدِّينِ

উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা ফাক্কিহনি ফিদ্দ্বীন।’

অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আমাকে দ্বীনের সঠিক জ্ঞান দান করুন।’ (বুখারি ১৪৩)

৫. কল্যাণের সঙ্গে কাজ সম্পাদনের দোয়া

رَبِّ يَسِّرْ وَلَا تُعَسِّرْ وَتَمِّمْ بِالْخَيْرِ

উচ্চারণ: ‘রাব্বি ইয়াসসির ওয়া লা তুআসসির, ওয়া তাম্মিম বিল-খাইরি।’

অর্থ: ‘হে আমার প্রতিপালক! সহজ করে দিন, কঠিন করবেন না এবং কল্যাণের সঙ্গে সম্পাদন করুন।’ (বায়হাকি)

পরীক্ষার হলে ভুলে গেলে করণীয়

অনেক সময় পরীক্ষার হলে দুশ্চিন্তার কারণে জানা বিষয়ও মনে পড়ে না। এমন অবস্থায় বেশি বেশি দরুদ শরিফ পড়া উত্তম। পাশাপাশি নিচের দোয়াটি পড়া যেতে পারে—

স্মরণ করার দোয়া

اللَّهُمَّ ذَكِّرْنِي مِنْهُ مَا نَسِيتُ، وَعَلِّمْنِي مِنْهُ مَا جَهِلْتُ

উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা জাক্কিরনি মিনহু মা নাসিতু, ওয়া আল্লিমনি মিনহু মা জাহিলতু।’

অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আমি যা ভুলে গেছি তা আমাকে স্মরণ করিয়ে দিন এবং যা জানি না তা আমাকে শিক্ষা দিন।’

পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জনের জন্য পরিশ্রম ও দোয়া—দুটিই সমান গুরুত্বপূর্ণ। একজন শিক্ষার্থী যদি আন্তরিকভাবে চেষ্টা করে এবং আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রাখে, তবে তার জন্য সাফল্যের পথ সহজ হয়ে যায়। তাই আত্মবিশ্বাস, অধ্যবসায় এবং আল্লাহর স্মরণ—এই তিনকে সঙ্গী করে পরীক্ষায় অংশ নিলে ইনশাআল্লাহ কাঙ্ক্ষিত সফলতা অর্জন সম্ভব।

এলাকার খবর

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত