নেপালের নতুন প্রধানমন্ত্রী কে এই বালেন্দ্র শাহ?

সংবাদপত্র প্রতিবেদক
 ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

মাত্র ৩৫ বছর বয়সে নেপালের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন বালেন্দ্র শাহ। সংগীতজগত থেকে রাজনীতিতে আসা এই তরুণ নেতা নতুন প্রজন্মের আশা ও পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। এক সময়ের জনপ্রিয় র‌্যাপার এবং কাঠমুন্ডুর মেয়র হিসেবে পরিচিত বালেন্দ্র শাহের এ উত্থান নেপালের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।

১৯৯০ সালে জন্ম নেওয়া বালেন্দ্র শাহ পেশাগতভাবে একজন প্রকৌশলী। তিনি ভারতের কর্ণাটকে স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনা করেন। শিক্ষাজীবনের পাশাপাশি সংগীতেও তার ছিল সমান দক্ষতা। র‌্যাপ সংগীতের মাধ্যমে তিনি সমাজের অসঙ্গতি, দুর্নীতি এবং রাজনৈতিক ব্যর্থতাকে তুলে ধরতেন। তার জনপ্রিয় গান ‘বলিদান’ তরুণদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল এবং আন্দোলন-সংগ্রামের সময় তা প্রেরণার উৎস হয়ে ওঠে।

রাজনীতিতে তার যাত্রা শুরু হয় ২০২২ সালে, যখন তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কাঠমুন্ডুর মেয়র নির্বাচিত হন। মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি নগর ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনতে কঠোর পদক্ষেপ নেন। যদিও এসব পদক্ষেপের জন্য তাকে সমালোচনার মুখেও পড়তে হয়েছে, বিশেষ করে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর কাছ থেকে।

পরবর্তীতে তিনি সক্রিয়ভাবে জাতীয় রাজনীতিতে যুক্ত হন এবং নির্বাচনে তার দল নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। এ নির্বাচনে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলিকে পরাজিত করে আলোচনায় আসেন। রাষ্ট্রপতি রামচন্দ্র পাউডেল সংবিধানের বিধান অনুযায়ী তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন।

বালেন্দ্র শাহের উত্থানের পেছনে অন্যতম কারণ তরুণদের সমর্থন। দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতিতে জর্জরিত নেপালের রাজনীতিতে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা থেকেই জনগণ তাকে বেছে নিয়েছেন। তার নেতৃত্বে নতুন ধরনের স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থার প্রত্যাশা করছে দেশবাসী।

তবে তার পথ একেবারে মসৃণ নয়। অতীতের কিছু সিদ্ধান্ত এবং কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। তবুও তার উদ্যম, জনপ্রিয়তা এবং নতুন চিন্তাধারা নেপালের ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

বিষয়:

নেপাল
এলাকার খবর

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত