উত্তরে হাওয়ায় হাড়কাঁপানো শীত আর ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা জনপদ। তবে হিমেল হাওয়া উপেক্ষা করেই এখন উত্তপ্ত ঠাকুরগাঁওয়ের রাজনীতির মাঠ।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ‘ঘরের ছেলে ঘরে ফিরছেন’—এমন জল্পনায় এখন নির্ঘুম রাত কাটছে উত্তর জনপদের বিএনপি নেতাকর্মীদের।
সব ঠিক থাকলে দীর্ঘ কয়েক বছর পর ফের ঠাকুরগাঁওয়ের মাটিতে পা রাখতে চলেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
জিয়া পরিবারের সঙ্গে উত্তর জনপদের নাড়ির টান দীর্ঘদিনের।
ঠাকুরগাঁওয়ের প্রবীণ শিক্ষাবিদ ও প্রবীণ সাংবাদিক সৈয়দ মেরাজুল হোসেন বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের নানার বাড়ি পঞ্চগড়ের চন্দনবাড়িতে। অন্যদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পিতৃভূমি দিনাজপুর। তার বাবা-মা সেখানেই চিরনিদ্রায় শায়িত। ফলে তারেক রহমানের এ সফরকে স্রেফ রাজনৈতিক কর্মসূচি হিসেবে দেখতে নারাজ স্থানীয়রা; তাদের কাছে এ যেন এক ‘শিকড়ের টান’।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, তারেক রহমানের এই সফর শুরু হচ্ছে আগামী ১১ জানুয়ারি বগুড়া থেকে। তার সম্ভাব্য সফরসূচি নিম্নরূপ:
১১ জানুয়ারি: বগুড়ায় আগমন।
১২ জানুয়ারি: পীরগঞ্জে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত শেষে ঠাকুরগাঁওয়ে পৌঁছানো এবং রাতযাপন।
১৩ জানুয়ারি: ঠাকুরগাঁও জিলা স্কুল বড় মাঠে জেলা বিএনপি আয়োজিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় ‘গণদোয়া’ অনুষ্ঠানে যোগদান। এরপর তিনি দিনাজপুরের পথে রওনা হতে পারেন।
মঙ্গলবার জেলা বিএনপি কার্যালয়ে এক প্রস্তুতি সভায় নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনা দেখা গেছে। এর আগে ভার্চুয়ালি দলের সভায় যোগ দিলেও এবার সরাসরি তারেক রহমানকে সামনে থেকে দেখার জন্য মুখিয়ে আছেন সাধারণ কর্মীরা।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী বলেন, এ সফর দীর্ঘ রাজনৈতিক ‘খরা’ কাটিয়ে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মাঝে নতুন প্রাণের সঞ্চার করবে। আমরা ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করছি।
ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের স্মৃতিতে তারেক রহমানের পুরোনো সফরের স্মৃতিগুলো এখনও সজীব। এক সময় ঠাকুরগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে তৃণমূল কর্মীদের সঙ্গে তার নিবিড় আলাপ কিংবা দুস্থদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণের কথা আজও ভোলেনি মানুষ। এমনকি তার নানি তৈয়বা মজুমদারের স্মরণে হরিপুরে আয়োজিত ফুটবল টুর্নামেন্টে তার উপস্থিত থাকার গল্পও স্থানীয়দের মুখে মুখে ফিরছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের এ সফর কেবল আবেগ নয়, বরং আগামী দিনের রাজনীতিতে উত্তরবঙ্গে বিএনপিকে সুসংগঠিত করার ক্ষেত্রে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।