মাগুরায় জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন এবং পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে কার্যক্রম নিষিদ্ধ জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় উদ্বোধনের আধঘণ্টা পরই পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন তিন নেতাকর্মী।
আটককৃতরা হলেন- নিষিদ্ধ ঘোষিত মাগুরা জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এনামুল হক হিরোক, মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সনিয়া খাতুন এবং ওসমান নামে এক যুবলীগ কর্মী।
বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে আওয়ামী লীগ নেতা এনামুল হক হিরোক, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ এবং মহিলা আওয়ামী লীগের জনাদশেক কর্মী নিয়ে মাগুরা শহরের জামরুলতলায় ৫ আগস্টের পর থেকে বন্ধ থাকা জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় উদ্বোধন করেন। তারা দলীয় কার্যালয়ের ভিতরে প্রবেশ না করলেও কার্যালয়ের সামনে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের সঙ্গে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করে কার্যালয় উদ্বোধনের ঘোষণা দেন।
এ সময় এনামুল হক হিরোক বলেন, ৫ আগস্টের পর থেকে মাগুরা জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় বন্ধ ছিল। নির্বাচনের মাধ্যমে বর্তমানে দেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকার এসেছে। আমরা চাই এখন থেকে দেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শুরু হোক। আমরা একসঙ্গে নতুন করে বাংলাদেশকে গড়তে চাই।
আওয়ামী লীগ নেতা এনামুল হক হিরোক তার বক্তব্যের পর দেশ ও জাতীর মঙ্গল কামনায় সেখানে দোয়া করার পর সবাই স্থান ত্যাগ করেন। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধরা কিছুক্ষণ পরই সেখান থেকে পতাকা খুলে নিয়ে পতাকা উত্তোলনের বেদি ভাঙচুরের পাশাপাশি আওয়ামী লীগ অফিসের মধ্যে থাকা কাঠের টেবিল চেয়ারে অগ্নিসংযোগ করেন।
এ ঘটনার পর আওয়ামী লীগ নেতা এনামুল হক হিরোকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। তবে তার স্ত্রী লতিফা পারভিন বেলি বলেন, আমার স্বামী স্ট্রোক করার কারণে ঠিকমতো চলাফেরা করতে পারেন না। তারপরও তিনি আওয়ামী লীগ অফিসের সামনে পতাকা উত্তোলন করতে গেছেন। আমি নিজে তাকে ধরে অটোরিক্শাতে তুলে দিয়েছি। এখন রাজনীতি করতে সমস্যা নেই তিনি জানিয়ে গিয়েছিলেন; কিন্তু সেখান থেকে বাড়ি ফেরার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ তাকে আটক করে নিয়ে গেছে।
এ বিষয়ে মাগুরা সদর থানার ওসি আশিকুর রহমান তিনজনের আটকের কথা স্বীকার করে বলেন, দলটির রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে। তারপরও যারা আইন অমান্য করছেন তাদের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।