তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। রেমিট্যান্স যেন কোনো অবস্থাতেই অনানুষ্ঠানিক বা অবৈধ চ্যানেলে না গিয়ে নিয়মিত ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে আসে, সে বিষয়ে প্রবাসীদের উৎসাহিত করতে হবে।
এজন্য প্রবাসীদের জন্য প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
রোববার (১২ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে এক অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
‘বিশ্ব সম্মেলন সিরিজ ২০২৬: সীমানা ছাড়িয়ে বাংলাদেশের ব্র্যান্ডিং’ শীর্ষক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সেন্টার ফর নন-রেসিডেন্ট বাংলাদেশি (এনআরবি)।
অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন বলেন, রেমিট্যান্সের টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রবাসীরা যাতে কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর তাদের আস্থা অটুট থাকে, সেটি নিশ্চিত করা জরুরি। প্রবাসীদের কষ্টার্জিত আয় বৈধ পথে আনতে আরো কী কী প্রণোদনা দেওয়া যেতে পারে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের উৎসগুলো বেশ ঝুঁকির মুখে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী রাখতে বৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই।
মন্ত্রী জহির উদ্দিন বলেন, আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত— এনআরবি ডায়াসপোরাকে আরো বেশি দক্ষ করে তোলা এবং তাদের উপার্জিত অর্থ দেশের উন্নয়নে সঠিক চ্যানেলে বিনিয়োগ করা।
তিনি সেন্টার ফর এনআরবি’র প্রশংসা করে বলেন, যারা ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠাতে সহায়তা করছেন, যেসব ব্যাংক কর্মকর্তা এ বিষয়ে অবদান রাখছেন, তাদের পুরস্কৃত ও উৎসাহিত করার এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়।
প্রবাসী আয়ের নতুন উৎস এবং নতুন শ্রমবাজার খুঁজে বের করার ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, শুধু প্রচলিত উৎসে আটকে না থেকে বলকান অঞ্চল বা পূর্ব ইউরোপের মতো নতুন বাজারগুলোতে আমাদের মনোযোগ দিতে হবে।
তিনি বলেন, আমাদের ফরেন পলিসি হলো ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’। বিদেশে আমাদের মিশনগুলো প্রবাসী ভাই-বোনদের সেবা নিশ্চিত করতে এবং তাদের সুরক্ষায় ২৪ ঘণ্টা কাজ করে যাচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, লেবাননসহ যুদ্ধাক্রান্ত দেশগুলো থেকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
অনুষ্ঠানে রেমিট্যান্স আহরণে বিশেষ অবদান রাখা ব্যাংকিং খাতের ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।