পিলখানা হত্যাকাণ্ডকে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব নস্যাৎ করার একটি গভীর ষড়যন্ত্র ও অপপ্রয়াস হিসেবে অভিহিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একে জাতীয় নিরাপত্তার দুর্বলতা বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সেনা দিবস-২০২৬ উপলক্ষ্যে শহীদ সেনা অফিসারদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় ও ইফতার অনুষ্ঠানের তিনি এ কথা বলেন।
পিলখানা ট্র্যাজেডির পরকালীন পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে তিনি বলেন, 'পিলখানার ঘটনার পরিক্রমায় আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোর দুর্বলতা ফুটে ওঠে। তাই বহির্বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোকে আরও আধুনিক, সময়োপযোগী ও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে আমাদের সরকার কাজ করবে।'
শহীদ সেনা পরিবারগুলোর দীর্ঘ ১৭ বছরের বঞ্চনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আমি বিশ্বাস করি, পিলখানার ঘটনাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্মরণ করা আমাদের জাতীয় দায়িত্ব। ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির ঘটনাকে ইতিহাসে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা না দিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না। সেনাবাহিনী ও আপনাদের সঙ্গে আলোচনা করে ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির স্মৃতিকে অম্লান করে রাখতে বর্তমান সরকার কাজ করবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'দেশের প্রশ্নে আমরা সীমান্ত বাহিনীকে আরও আধুনিক ও সুসংহত করব। আমাদের সদস্যরা দেশপ্রেম ও পেশাগত উৎকর্ষতায় সীমান্তে দায়িত্ব পালন করবে।' একই সঙ্গে তিনি পিলখানায় নিহত ৫৭ জন দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন শহীদের পরিবারের সন্তানদের শিক্ষা, চিকিৎসা ও স্থায়ী পুনর্বাসনের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।'
এসময় প্রধানমন্ত্রী সেদিন পিলখানায় থাকা সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি সহমর্মিতা জানান। পরে ইফতার অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে শহীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।