তপ্ত বালু আর প্রচণ্ড দাবদাহের দেশ হিসেবে পরিচিত সৌদি আরব ও কাতারে দেখা মিলেছে এক অবিশ্বাস্য প্রাকৃতিক দৃশ্যের। গত ১৭ ও ১৮ ডিসেম্বর এই দুই মরুপ্রধান দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে আছড়ে পড়েছে ভারী তুষারপাত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, সোনালী বালুর ওপর জমে আছে সাদা বরফের পুরু আস্তরণ, আর সেই বরফ মাড়িয়েই ধীরলয়ে হেঁটে চলেছে উটের দল।
সৌদি আরবের চিত্র: সৌদি আরবের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় জাবাল আল লাউজ এলাকায় এবারের তুষারপাত ছিল সবচেয়ে আকর্ষণীয়। জর্ডান ও মিসর সীমান্তঘেঁষা এই পাহাড়ি অঞ্চলে বরফ উপভোগ করতে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসেন। শিশু-কিশোরদের ঐতিহ্যবাহী পোশাকের ওপর জ্যাকেট পরে বরফের ওপর নাচ-গান করতে দেখা গেছে। এছাড়া দেশটির মধ্যাঞ্চলীয় আল-মাজমাহ ও আল-ঘাট এলাকায় পাহাড়ের চূড়াগুলো বরফে ঢেকে গিয়ে এক অপার্থিব সৌন্দর্যের সৃষ্টি করে।
তিন পাশে সমুদ্রবেষ্টিত মরুভূমির দেশ কাতারও সাক্ষী হয়েছে এই বিরল ঘটনার। দেশটির বালুময় ধূসর প্রান্তর পেঁজা তুলোর মতো সাদা বরফে ঢেকে যায়। দুবাইভিত্তিক সংবাদমাধ্যম খালিজ টাইমস এই ঘটনাকে ‘মরুভূমিতে সাদা শীত’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
সৌদি আরবের শীর্ষ জ্যোতির্বিদ মোহাম্মদ বিন রেদ্দাহ আল থাকাফি জানান, আরবের উত্তরাঞ্চলে শীতকালে তুষারপাত একেবারে অসম্ভব কিছু নয়। সাধারণত ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যে ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ুদ্বারা প্রভাবিত অঞ্চলগুলোতে মাঝেমধ্যে এমন ঘটনা ঘটে। তবে এবার বরফের পরিমাণ ও বিস্তৃতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
আমিরাতেও কি পড়বে বরফ? সৌদি ও কাতারের এই দৃশ্য দেখে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাসিন্দাদের মধ্যেও কৌতূহল জেগেছে। যদিও আবহাওয়াবিদ ড. আহমেদ হাবিব মনে করেন, আমিরাতে ভৌগোলিক উচ্চতার কারণে তুষারপাতের চেয়ে শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা বেশি। তবে ইতিহাস বলছে, ২০০৪, ২০০৯ এবং সর্বশেষ ২০২০ সালে আমিরাতের রাস আল খাইমাহর জাবাল জাইস পাহাড়ে তুষারপাত হয়েছিল।
পরিবেশবাদীরা বলছেন, বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবেই মরুভূমির আবহাওয়ায় এমন নাটকীয় বদল আসছে। যেখানে কয়েক বছর আগেও প্রচণ্ড খরা ছিল নিত্যসঙ্গী, সেখানে এখন নিয়মিত বৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা এবং তুষারপাত নতুন এক বাস্তবতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তুষারপাতের আনন্দ ছাপিয়ে আবহাওয়ার এই বিরূপ আচরণ এখন বিজ্ঞানীদের কাছে নতুন উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।