যে কারণে আবু বকর (রা.)-কে নেতা নির্বাচন করা হয়েছিল

সংবাদপত্র প্রতিবেদক
 ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ইন্তেকালের পর মুসলিম উম্মাহ এক সংবেদনশীল ও সংকটময় সময়ের মুখোমুখি হয়। নেতৃত্বশূন্য সেই মুহূর্তে সাহাবায়ে কেরাম পরামর্শ ও ঐকমত্যের ভিত্তিতে হজরত আবু বকর সিদ্দীক (রা.)-কে খলিফা নির্বাচিত করেন। এ সিদ্ধান্ত ছিল কেবল আবেগনির্ভর নয়; বরং ধর্মীয় মর্যাদা, রাজনৈতিক বাস্তবতা ও ব্যক্তিগত যোগ্যতার সুস্পষ্ট ভিত্তির ওপর দাঁড়ানো। নিচে তার নির্বাচনের প্রধান কারণগুলো তুলে ধরা হলো—

ইসলামে অগ্রগণ্যতা ও ইমানের দৃঢ়তা

হজরত আবু বকর (রা.) ছিলেন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের মধ্যে প্রথম ইসলাম গ্রহণকারী। ইসলামের সূচনালগ্ন থেকেই তিনি নবীজির (সা.) নিকটতম সহচর ও বিশ্বস্ত সহযোগী ছিলেন। মিরাজের ঘটনার মতো কঠিন সময়ে যখন অনেকে সংশয়ে পড়েন, তখন তিনিই নিঃসংকোচে নবীজিকে সত্য বলে ঘোষণা করেন। এ কারণেই তিনি ‘সিদ্দীক’ উপাধিতে ভূষিত হন। সাহাবিদের কাছে তার ঈমান, তাকওয়া ও আন্তরিকতা ছিল নিরঙ্কুশভাবে স্বীকৃত।

নবীজির প্রত্যক্ষ ইঙ্গিত

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনের শেষ পর্যায়ে অসুস্থতার সময় তিনি নির্দেশ দেন, আবু বকর (রা.) যেন মুসল্লিদের ইমামতি করেন। ইসলামে নামাজের ইমামতি কেবল ইবাদতের নেতৃত্ব নয়, বরং সামগ্রিক নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত। সাহাবায়ে কেরাম এটিকে ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত হিসেবে দেখেছিলেন।

হিজরতের সঙ্গী ও পরীক্ষিত সাহস

মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের সময় নবীজির একমাত্র সফরসঙ্গী ছিলেন আবু বকর (রা.)। সাওর গুহায় আশ্রয় নেওয়ার সেই সংকটময় মুহূর্তে তার অবিচল আস্থা, ধৈর্য ও আত্মত্যাগ ছিল অনন্য। বিপদের সময় নবীজির পাশে থাকা এবং দৃঢ় মনোবল প্রদর্শন করা তার নেতৃত্বের যোগ্যতার শক্ত প্রমাণ হয়ে ওঠে।

কুরাইশ বংশ ও সামাজিক বাস্তবতা

তৎকালীন আরব সমাজে কুরাইশ বংশের নেতৃত্ব ব্যাপকভাবে গ্রহণযোগ্য ছিল। আবু বকর (রা.) কুরাইশ গোত্রের সম্মানিত শাখার সদস্য হওয়ায় তার নেতৃত্ব গোত্রগত দ্বন্দ্ব বা রাজনৈতিক অস্থিরতা কমাতে সহায়ক হয়। নবগঠিত ইসলামী রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতার জন্য এটি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।

বিষয়:

আমল ইসলাম
এলাকার খবর

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত