ইরানের নেতৃত্ব যুক্তরাষ্ট্রকে ‘অপমান’ করছে বলে কঠোর মন্তব্য করেছেন জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ ম্যার্ৎস।
সোমবার এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, তেহরান মার্কিন কর্মকর্তাদের আলোচনার অজুহাতে পাকিস্তানে নিয়ে যাচ্ছে এবং কোনো ধরনের ফলাফল ছাড়াই তাদের খালি হাতে ফিরিয়ে দিচ্ছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ওয়াশিংটনের সামনে এই যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার কোনো কার্যকর পথ তিনি দেখছেন না।
জার্মানির নর্থ রাইন-ওয়েস্টফালিয়া অঙ্গরাজ্যের মার্সবার্গ শহরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলাপকালে ম্যার্ৎস বলেন, ‘ইরানিরা আলোচনায় খুবই দক্ষ, অথবা বলা যায় আলোচনা না করার কৌশলে তারা বেশি পারদর্শী। তারা আমেরিকানদের ইসলামাবাদ পর্যন্ত নিয়ে যাচ্ছে এবং কোনো ফল ছাড়াই ফিরিয়ে দিচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘একটি পুরো জাতি (যুক্তরাষ্ট্র) ইরানি নেতৃত্ব, বিশেষ করে তাদের রেভল্যুশনারি গার্ডসের হাতে অপমানিত হচ্ছে। আমি আশা করি এই পরিস্থিতির দ্রুত অবসান ঘটবে।’
ইউক্রেনসহ বিভিন্ন ইস্যুতে ওয়াশিংটন ও ইউরোপের সম্পর্ক আগে থেকেই টানাপড়েনে ছিল। ইরান যুদ্ধ সেই দূরত্বকে আরও বাড়িয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ন্যাটো মিত্রদের সমালোচনা করে বলেন, হরমুজ প্রণালি সচল রাখতে তারা নৌবাহিনী পাঠিয়ে সহযোগিতা করছে না।
যুদ্ধের কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি বর্তমানে প্রায় অচল অবস্থায় রয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নজিরবিহীন অস্থিরতা তৈরি করেছে।
জার্মান চ্যান্সেলর ম্যার্ৎস আরও স্মরণ করিয়ে দেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যখন ইরানে হামলা শুরু করে, তখন জার্মানি বা ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে কোনো পরামর্শ করা হয়নি।
তিনি জানান, হামলার পরপরই তিনি ট্রাম্পকে এ বিষয়ে তার সংশয়ের কথা জানিয়েছিলেন।
বর্তমান পরিস্থিতিকে ইরাক ও আফগানিস্তান যুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, ‘যদি জানতাম পরিস্থিতি পাঁচ-ছয় সপ্তাহ ধরে এভাবে চলবে এবং ক্রমেই খারাপ হবে, তাহলে আমি ট্রাম্পকে আরও জোরালোভাবে হামলা না করার কথা বলতাম।’
সম্প্রতি ট্রাম্প তার দুই বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারের ইসলামাবাদ সফর বাতিল করার পর শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।
অন্যদিকে, পাকিস্তান ও ওমানে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সোমবার রাশিয়া সফরে যান।
হরমুজ প্রণালিতে মাইন পাতা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন ম্যার্ৎস। তিনি বলেন, ‘আমরা ইউরোপীয়দের পক্ষ থেকে জার্মানির মাইনসুইপার জাহাজ পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছি, যাতে জলপথটি পরিষ্কার করা যায়।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই যুদ্ধের কারণে জার্মানিকে বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে, যা করদাতাদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে এবং দেশের অর্থনৈতিক শক্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।