ইরানে স্থল আগ্রাসন চালাতে কয় হাজার সেনা মোতায়েন করল যুক্তরাষ্ট্র?

সংবাদপত্র প্রতিবেদক
 ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের খারগ দ্বীপে স্থল আগ্রাসনের প্রস্তুতি প্রায় শেষ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরাইলের সঙ্গে যৌথভাবে তেহরানে আক্রমণ শুরু করার পর থেকে ৩২ দিন ধরে আকাশপথে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে আসছে। এতে আশানুরুপ ক্ষয়ক্ষতি করতে না পেরে এবার স্থল হামলা করতে যাচ্ছে ওয়াশিংটন।

গত সপ্তাহে পশ্চিম এশিয়ায় আড়াই হাজার মেরিনসহ প্রায় ৫ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র।  এতে ওই অঞ্চলে সেনাসংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। এটি একটি স্পষ্ট সংকেত যে, ইরানে মার্কিন যুদ্ধ এখন অন্যান্য আমেরিকান সামরিক হস্তক্ষেপের পথেই হাঁটছে

বর্তমান ও সাবেক সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, তৃতীয় একটি কারণ হতে পারে ইরানের দক্ষিণ উপকূল বরাবর সেনা মোতায়েন করা, যাতে হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ ভাঙা যায়। 

উল্লেখ্য, বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ অপরিশোধিত তেল ও গ্যাস এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। এর লক্ষ্য হতে পারে ট্যাঙ্কার চলাচলকে যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে আনা।

আর এসব কারণের নেপথ্যে রয়েছে রেজিম চেঞ্জ বা শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের সেই পুরনো ভূত, যা নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেল আবিব আগে থেকেই কথা বলছে। আর এটি বাস্তবায়ন করতে হলে নিশ্চিতভাবেই সরাসরি ময়দানে পদাতিক সেনার প্রয়োজন হবে।

যেভাবেই দেখা হোক না কেন, এটি স্পষ্ট যে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে শুরু হওয়া এই আমেরিকান সামরিক তৎপরতা—যা ২০০৩ সালের পর সবচেয়ে বড় বলে মনে করা হচ্ছে—ইঙ্গিত দেয় যে এই যুদ্ধ শেষ হওয়া থেকে এখনও অনেক দূরে। 

অন্যদিকে ওয়াশিংটন ও ইরানের মধ্যে ধীরগতির শান্তি আলোচনাকেও ইরান প্রকাশ্যে প্রত্যাখ্যান করেছে।

উপসাগরীয় যুদ্ধক্ষেত্রে এআরজি, মেরিন ও প্যারাট্রুপারদের ঢল

সেনা মোতায়েনের সর্বশেষ নিশ্চিত তথ্য পাওয়া গেছে গত শনিবার; মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড এক্সে জানিয়েছে যে, ইউএসএস ত্রিপোলি ৩১তম মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিটের সাড়ে তিন সহস্রাধিক নাবিক ও মেরিন সেনা নিয়ে সেখানে পৌঁছেছে।

ইউএসএস ত্রিপোলি হলো এলিট এআরজি বা অ্যামফিবিয়াস রেডি গ্রুপের অংশ, যাকে মনে করা হয় ‘যুক্তরাষ্ট্রের কাছে থাকা সবচেয়ে বহুমুখী, নমনীয় এবং শক্তিশালী গ্লোবাল রেসপন্স ফোর্স’।

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের ‘ইমিডিয়েট রেসপন্স ফোর্স’-এর অংশ হিসেবে ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের ২ হাজার প্যারাট্রুপারকে পশ্চিম এশিয়ায় যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। 

রয়টার্সের তথ্যমতে, এর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আরও কয়েক হাজার (১ হাজার থেকে ৪ হাজারের মধ্যে) সেনাকে যাত্রার নির্দেশ দেওয়া হয়।

পেন্টাগন কর্মকর্তারা নিউইয়র্ক টাইমসকে জানিয়েছেন, তাদের অবস্থান অত্যন্ত গোপনীয়; তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হিসেবে তারা বলেছেন যে, এই বাহিনী ইরানের ‘খারগ দ্বীপে আঘাত হানার দূরত্বের’ মধ্যেই অবস্থান করবে। এর চার দিন আগে, ক্যালিফোর্নিয়া থেকে ১১তম মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিটের অংশ হিসেবে আড়াই হাজার মেরিন ও নাবিকসহ ইউএসএস বক্সার রওনা হয়েছে এবং বর্তমানে পথে রয়েছে।

ইউএসএস বক্সার একইসঙ্গে এফ-৩৫বি স্টিলথ ফাইটারের বাহক হিসেবেও কাজ করে। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ যুক্তরাষ্ট্রের ১৩ বিলিয়ন ডলারের ফ্ল্যাগশিপ এবং এ যাবৎকালের সবচেয়ে উন্নত রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড বর্তমানে অকেজো হয়ে আছে।

এলাকার খবর

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত