বিদেশি বিনিয়োগে স্থবিরতা

সংবাদপত্র প্রতিবেদক
 ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

বিনিয়োগ নিয়ে বাংলাদেশের দুর্ভাগ্য চলছে ৫ বছর ধরে। জটিলতার শুরু কোভিড সংক্রমণ নিয়ে। এরপর ডলার বাজারের ধাক্কা আর রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধে চিড়ে চ্যাপ্টা হয় দেশের অর্থনীতি। এর সুবাদে কমে গেছে মানুষের প্রকৃত আয়। ৩০ শতাংশ ছুঁইছুই দারিদ্র্যের হার। এসব সংকটের বোঝা আসে অন্তর্বর্তী সরকারের ঘাড়েও। আগের চেয়ে মুদ্রাবাজার স্থিতিশীল আর অর্থ পাচার কমলেও বিনিয়োগে গতি বাড়েনি।

তবে, হতাশ হতে রাজি নয় বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)। সবশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত এক বছরে বিদেশি বিনিয়োগ বেড়েছে ৬০ শতাংশ। বিদেশি ও যৌথ বিনিয়োগ মিলিয়ে প্রস্তাব এসেছে ১৬১টি। বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের শীর্ষে পোশাক, বিদ্যুৎ ও ব্যাংক।

সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ এসেছে রাসায়নিক খাতে। সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ বা এফডিআই ফ্লোতে সবচেয়ে এগিয়ে নেদারল্যান্ডস, যুক্তরাজ্য ও চীন।

যদিও বার্ষিক প্রতিবেদনে ওঠে এসেছে, পুরোনো সমস্যায় আটকে আছে বিদেশি বিনিয়োগ। কাস্টমস, আদালত, লাইসেন্সিং ও ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতা তদারকিতে বাংলাদেশের অবস্থান এখনও দুর্বল। সমন্বয়ের অভাব আছে সরকারি দফতরের কাজেও।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, পুরনো বিদেশী বিনিয়োগকারী যারা আছেন, তাদের আত্মবিশ্বাসের একটি চিত্র পাওয়া যায় নিসন্দেহে। কিন্তু নতুন করে বিনিয়োগ আসার ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত কোনো বড় ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটে নাই।

বিডার নির্বাহী সদস্য নাহিয়ান আহমেদ রোচি বলেন, এই অর্থবছরে গত বছর আগস্ট-সেপ্টেম্বরে অস্থিতিশীল ছিল। স্থিতিশীলতা না থাকার পরেও যে পুরো বছরে আমরা ইতিবাচক পর্যায়ে আছি, সেটা আমাদের জন্য একটি ভালো দিক। গ্লোবালি যেখানে এফডিআইয়ের পরিমাণ বা ইকুইটি ইনভেস্টমেন্টের পরিমাণ কমছে সেটার একটি ইমপ্যাক্ট বাংলাদেশের ওপর আছে।

বিডার যুক্তি, বিনিয়োগে মন্দার মূল কারণ রাজনৈতিক অস্থিরতা। তাতে সায় দিচ্ছেন ব্যবসায়ী নেতারাও। বলছেন, মার্কিন শুল্কনীতি বাংলাদেশের রফতানি ও বিনিয়োগ পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। অবকাঠামো, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আর নীতির ধারাবাহিকতা নিয়েও প্রশ্ন আছে তাদের।

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি তাসকিন আহমেদ বলেন, নির্বাচিত সরকার না থাকলে বিদেশিরা ডিসকমফোর্ট ফিল করে। দেশীয় বিনিয়োগকারীদের সমস্যা সমাধান না করে বিদেশিদের ডাকলে তো এটার কোনো সমাধান হবে না।

এদিকে, বিনিয়োগ টানতে শুরু থেকেই মরিয়া ছিলো অন্তর্বর্তী সরকার। সবশেষ বিনিয়োগ সামিটে অংশ নেয় দেশ-বিদেশের সাড়ে ৩ হাজার প্রতিনিধি। গঠন হয় সাড়ে ৭ কোটি ডলারের ফান্ড। সাথে ৭১ হাজার আবেদন নিষ্পত্তি আর ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টারে সেবার সমস্যার কথা বলছে বিডা। কিন্তু এসব উদ্যোগ কি যথেষ্ট?

নাহিয়ান আহমেদ রোচি বলেন, ওয়ানস্টপ সার্ভিসে আমি একটি ব্যর্থতা বলবো যে কার্যক্রমের সুফলটা কোনোভাবে পাইনি। কারণ ওয়ান স্টপ সার্ভিসের পরও বিডা তাদের নিজেদের অনলাইন সেবাটা চালু রেখেছে।

এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কৃষি প্রক্রিয়াকরণ, পাট ও আইটি খাতে বাড়তি গুরুত্ব দেয়ার পক্ষে বিডা।

এলাকার খবর

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত