যশোর-২ আসনে বিএনপির আস্থা সাবিরা সুলতানা মুন্নি

নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোর-২ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী সাবিরা সুলতানা মুন্নি ছবি: সংবাদপত্র
যশোর-২ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী সাবিরা সুলতানা মুন্নি ছবি: সংবাদপত্র

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার কৃত্তিপুর গ্রামের একটি সম্ভান্ত্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন নাজমুল ইসলাম। তিন ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার ছোট। 

 বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, তরুণ শিল্পপতি ও সমাজসেবক মোঃ নাজমুল ইসলাম ছিলেন সকলের কাছে প্রিয় মানুষ। 
একজন ব্যাবসায়ী উদ্যোক্তা হিসাবে দেশীয় পন্য বিদেশে রপ্তানি করতে শিল্প কলকারখানা প্রতিষ্ঠা করে হাজার হাজার নারী পুরুষের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করেন। নিজস্ব জমির উপর নিজ অর্থায়নে প্রতিষ্ঠা করেন নাজমুল ইসলাম প্রাথমিক বিদ্যালয়, অসহায় গৃহহীনদের জন্য প্রতিষ্ঠা করেন শামসুর নাহার ওল্ডহোম। এছাড়াও বিভিন্ন এলাকায় মসজিদ মাদ্রাসার উন্নয়নে আর্থিক সহযোগিতা করেন তিনি। অসহায় ও দারিদ্র্য মানুষের সহযোগিতার কারণে দানশীল ব্যাক্তি হিসাবে তিনি ছিলেন গরীবের বন্ধু। 
জনগণের সেবায় নিজেকে আরো বেশি নিয়োজিত রাখার লক্ষ্যে বিএনপি পরিবারের সন্তান হিসাবে সক্রিয় রাজনীতিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি। 
দায়িত্ব গ্রহণ করেন যশোর জেলা বিএনপির অর্থ বিষয়ক সম্পাদক ও ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি হিসাবে। রাজনীতির মাঠে খুবই অল্প সময়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে ঝিকরগাছা ও চৌগাছা বাসীর গণমানুষের নেতা হিসাবে স্বীকৃতি লাভ করেন তিনি। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-২ আসনে সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসাবে নির্বাচনী প্রস্তুতি নিলেও দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে চার দলীয় জোটের শরিক দলকে সমর্থন দেন তিনি। ১/১১ সরকারের ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং এর মাধ্যমে আওয়ামিলীগ সরকার গঠন করে ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে শুরু করে গুম খুনের রাজনীতি। এই রাজনীতিই তার জীবনের কাল হয়ে দাড়ায়। ২০১১ সালের ১৫ই ডিসেম্বর আওয়ামী সরকারের নীল নকশায় রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানার সামনে থেকে অপহরণের পর নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হয় জনপ্রিয় এই বিএনপি নেতা নাজমুল ইসলাম।

শহীদ নাজমুল ইসলামের পিতা একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও প্রবীণ রাজনীতিবিদ মোঃ নুরুল ইসলাম একসময় ঝিকরগাছা সদর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপির সহ সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

তার বড় ভাই মোঃ নজরুল ইসলাম ঝিকরগাছা উপজেলা যুবদলের সহ-সভাপতি, পৌর যুবদলের সভাপতি, পৌর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক এবং বর্তমানে ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপির যুব বিষয়ক সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। 

এখন পর্যন্ত শহীদ নাজমুল ইসলামের পরিবারের প্রায় ১৫ জন সদস্য ঝিকরগাছা উপজেলা ও পৌর বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল সহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন দায়িত্ব পলন করছেন।

দীর্ঘ ১৭ বছর যাবৎ স্বৈরাচারী ফ্যাসিস্ট হাসিনার স্বশাসনামলে শহীদ নাজমুল ইসলামের পরিবারের সদস্যদেরকে বিএনপির রাজনীতি থেকে দূরে রাখতে দেড় শতাধিকের বেশি হয়রানীমূলক রাজনৈতিক মিথ্যা মামলার শিকার হয় এবং বহুবার কারাবরণে শিকার হতে হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে যৌথ বাহিনীর অভিযানের নামে বাড়িঘরে হামলা ভাংচুর ও লুটপাট চালায় এবং পরিবারের বৃদ্ধ, নারী ও শিশু সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করা হয়। সুকৌশলে ধংশ করে দেওয়া হয় তাদের ব্যাবসা বানিজ্য সহ জীবিকা নির্বাহে উপার্জনের মাধ্যম। ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে বছরের পর বছর বড়ি ছাড়া করা হয় পুরুষ সদস্যদের।

নাজমুল ইসলামের স্ত্রী সাবিরা সুলতানা মুন্নি
স্বামীর মৃত্যুর পরে গৃহিণী থেকে রাজনীতির মাঠে প্রবেশ করে ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপির সদস্য পদ গ্রহণ করেন। সকল ঘাত-প্রতিঘাত ও ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে শহীদ নাজমুল ইসলামের স্বপ্ন পূরনে দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে শুরু করেন নতুন জীবনের পথ চলা।
 জনদাবির প্রেক্ষিতে ২০১৪ সালে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসাবে শত প্রতিকূলতার মধ্যেও আওয়ামীলীগের চেয়ারম্যান প্রার্থীকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে বিএনপির প্রথম নারী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। 

স্বৈরাচার পতন আন্দোলন-সংগ্রামে অত্যন্ত সাহসী ভূমিকা রাখায় বিএনপির চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত দলীয় কাউন্সিলে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য হিসাবে মনোনীত করেন। 
২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের নির্দেশে যশোর-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন প্রদান করা হয়।
২০২৪ সালে ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপির কাউন্সিল নির্বাচনে তৃনমূল নেতৃবৃন্দের প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে ব্যপক ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করে উপজেলা বিএনপির সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন সাবিরা নাজমুল। 

আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে মনোনয়ন পেয়েছেন সাবিরা নাজমুল মুন্নি।

এলাকার খবর

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত