ধর্মকে ব্যবহার না করে সোজাপথে রাজনীতি করুন: মির্জা ফখরুল

সংবাদপত্র প্রতিবেদক
 ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ধর্মকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার না করে সরাসরি জনগণের সামনে এসে রাজনীতি করার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন। ফখরুল বলেন, নির্দিষ্ট একটি প্রতীকে ভোট দিলে বেহেশতে যাওয়া যাবে—এমন প্রচার চালানো এক ধরনের মুনাফিকি এবং সাধারণ মানুষকে ভুল বুঝিয়ে ভোট আদায়ের কৌশল।

আলোচনা সভায় মির্জা ফখরুল উল্লেখ করেন যে, সংস্কারের ধারণাটি মূলত বিএনপির হাত ধরেই এসেছে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার এখন যেসব সংস্কারের প্রচারণা চালাচ্ছে, বিএনপি তার অন্তত দুই বছর আগেই '৩১ দফা' সংস্কার প্রস্তাব পেশ করেছিল। সুতরাং সংস্কার বিএনপিরই সৃষ্টি। তবে ঐকমত্যের বাইরে গিয়ে বিভিন্ন বিষয় সংস্কারের নামে ঢুকিয়ে দেওয়া এবং বিএনপির সাথে রাজনৈতিক বেইমানি করার অভিযোগও তোলেন তিনি। তারপরও দেশের বৃহত্তর স্বার্থে বিএনপি অনেক ক্ষেত্রে নমনীয় হয়েছে বলে তিনি জানান।

নির্বাচন নিয়ে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের বিষয়ে সতর্ক করে ফখরুল বলেন, একটি বিশেষ পক্ষ সুপরিকল্পিতভাবে বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে যাতে দলটির ভূমিধস বিজয় ঠেকানো যায়। যারা এখন নির্বাচন হবে কি না বলে জনমনে শঙ্কা ছড়াচ্ছে, তাদের খুঁজে দেখলে দেখা যাবে নির্বাচনে তিনটি আসন পাওয়ার মতো অবস্থানও তাদের নেই। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, যারা অতীতে বাংলাদেশের অস্তিত্বকেই স্বীকার করতে চায়নি এবং হানাদার বাহিনীর দোসর হিসেবে কাজ করেছে, তাদের বিচার এদেশের মানুষ ভুলে যায়নি।

মির্জা ফখরুল তাঁর বক্তব্যের শেষে বলেন, অনেক ত্যাগ ও আন্দোলনের পর দেশ আজ একটি গণতান্ত্রিক পথ খুঁজে পেয়েছে। আসন্ন নির্বাচন কেবল ক্ষমতার পালাবদল নয়, বরং মানুষের হারানো অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার একটি বড় সুযোগ। এবারের ভোটই ঠিক করে দেবে এই দেশ আগামী দিনে কোন পথে চলবে এবং জনগণের সার্বভৌমত্ব কীভাবে সংরক্ষিত হবে।

এলাকার খবর

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত