মিরাজের এই সফরের সর্বোচ্চ ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তরসমূহের মধ্যে রয়েছে সিদরাতুল মুনতাহা এবং শরিফুল আকলাম। সিদরাতুল মুনতাহা হলো সৃষ্টিজগতের জ্ঞান ও গমনাগমনের শেষ সীমানা, যেখানে পৌঁছে মানব ও ফেরেশতার সামর্থ্য সীমাবদ্ধ হয়ে যায়। আর এর ঊর্ধ্বে অবস্থিত শরিফুল আকলাম হলো আল্লাহ তাআলার তাকদির ও চূড়ান্ত ফয়সালা লিপিবদ্ধ হওয়ার মহান কেন্দ্র।
সিদরাতুল মুনতাহার পরিচয়
মিরাজের সফরে রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে সিদরাতুল মুনতাহায় নিয়ে যাওয়া হয়। এটি একটি বরই গাছ যা সপ্তম আকাশের ঊর্ধ্বে অবস্থিত। মুনতাহা শব্দের অর্থ চূড়ান্ত সীমা। শরহে হাদিসের আলোকে জানা যায়, পৃথিবী থেকে ঊর্ধ্বে উত্থিত সকল আমল সিদরাতুল মুনতাহা পর্যন্ত এসে থামে ঊর্ধ্বজগত থেকে অবতীর্ণ সকল খোদায়ী আদেশ ও তাকদির প্রথমে এখানেই অবতরণ করে এর পরবর্তী স্তর সাধারণ সৃষ্টির জন্য সম্পূর্ণ নিশিদ্ধ। এই কারণেই একে বলা হয় সিদরাতুল মুনতাহা,অর্থাৎ সৃষ্টির জ্ঞান ও গমনাগমনের শেষ সীমানা। শরহুজ জুরকানি আলাল মাওয়াহিব: ৬/১৮
رَأَى جِبْرِيلَ لَمْ يَرَهُ فِي صُورَتِهِ إِلاَّ مَرَّتَيْنِ مَرَّةً عِنْدَ سِدْرَةِ الْمُنْتَهَى وَمَرَّةً فِي جِيَادٍ لَهُ سِتُّمِائَةِ جَنَاحٍ قَدْ سَدَّ الأُفُقَ রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হজরত জিবরাঈল আ.-কে তার প্রকৃত আকৃতিতে মাত্র দু’বার দেখেছেন। একবার তিনি তাকে দেখেছেন সিদরাতুল মুনতাহার নিকটে, আর আরেকবার তাকে দেখেছেন এমন এক রূপে,যার ছিল ছয়শত ডানা, যা দিগন্ত আচ্ছন্ন করে রেখেছিল। (সুনান আত তিরমিজি:৩২৭৮)
হজরত আবু সাইদ খুদরি রা. বলেন,
صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ ﷺ فِي الْبَيْتِ الْمَعْمُورِ، ثُمَّ أُتِيَ بِهِ إِلَى سِدْرَةِ الْمُنْتَهَى، ثُمَّ أُدْخِلَ الْجَنَّةَ، ثُمَّ عُرِضَتْ عَلَيْهِ النَّارُ রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বায়তুল মামুরে নামাজ আদায় করেন, এরপর সিদরাতুল মুনতাহায় পৌঁছান, তারপর জান্নাত ও জাহান্নাম প্রদর্শন করা হয়। (খসায়িসুল কুবরা, ইমাম সুয়ুতি:১/১৬৯)
ثُمَّ رُفِعْتُ حَتَّى سَمِعْتُ صَرِيفَ الأَقْلَامِ এরপর আমাকে আরও ঊর্ধ্বে উঠানো হলো, এমনকি আমি কলমের লেখার শব্দ শুনতে পেলাম। (সহিহ মুসলিম:১৬৪) এই কলম লওহে মাহফুজে, তাকদির আল্লাহ তাআলার ফয়সালা,সৃষ্টিজগতের সকল বিধান লিপিবদ্ধ করছিল।
বিশ্লেষণমূলক সিদ্ধান্ত
১. শরিফুল আকলাম সিদরাতুল মুনতাহার পরবর্তী স্তর ২. হাদীসে “ثُمَّ” (এরপর) শব্দ ধাপে ধাপে ঊর্ধ্বগমনের প্রমাণ ৩. সৃষ্টির জ্ঞান ও গমনাগমনের শেষ সীমা হলো সিদরাতুল মুনতাহা। ৪. এর ঊর্ধ্বে রয়েছে আল্লাহর তাকদির জারির কেন্দ্র ৫. নামাজ ফরজ হওয়ার ঘটনা এই স্তরের পরেই সংঘটিত।