বিশ্বে সবচেয়ে বেশি মসজিদ রয়েছে যেসব দেশে

সংবাদপত্র প্রতিবেদক
 ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বে সবচেয়ে বেশি মসজিদ কোন দেশে? সাধারণভাবে ধারণা করা হয়, উত্তরটা সহজ ও অনুমেয়। কিন্তু সাম্প্রতিক তথ্য ও পরিসংখ্যান বলছে, বাস্তব চিত্র আরও বিস্ময়কর। ২০২৫–২৬ সালের বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, মসজিদের সংখ্যায় বিশ্বে এক নম্বরে রয়েছে ইন্দোনেশিয়া।

মসজিদ শুধু নামাজ আদায়ের স্থান নয়। মুসলিম সমাজে এটি ধর্মীয় শিক্ষা, সামাজিক মিলনমেলা, দান-খয়রাত, সম্প্রীতি ও সামষ্টিক জীবনের কেন্দ্রবিন্দু। তাই কোন দেশে কত মসজিদ রয়েছে, তা সেই দেশের ধর্মীয় ও সামাজিক বাস্তবতারই প্রতিচ্ছবি।

মসজিদের সংখ্যায় শীর্ষ দেশগুলো

সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, মসজিদের সংখ্যায় বিশ্বে শীর্ষে রয়েছে ইন্দোনেশিয়া। দেশটি অন্য সব দেশকে বহু ব্যবধানে ছাড়িয়ে গেছে।

১. ইন্দোনেশিয়া : প্রায় ৮ লাখ মসজিদ

বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুসলিম জনসংখ্যার দেশ ইন্দোনেশিয়ায় আনুমানিক ৮ লাখ মসজিদ রয়েছে। শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রাম, সবখানেই মসজিদ রয়েছে। এসব মসজিদ শুধু ইবাদতের জায়গা নয়; শিক্ষা, সামাজিক অনুষ্ঠান ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের কেন্দ্র হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ২০ কোটির বেশি মুসলিম জনসংখ্যা এবং ইসলামী সংস্কৃতির গভীর প্রভাবই এই বিপুল সংখ্যার প্রধান কারণ।

২. ভারত : প্রায় ৩ থেকে ৪ লাখ মসজিদ

মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ না হলেও, মসজিদের সংখ্যায় ভারত বিশ্বের শীর্ষ দেশগুলোর একটি। দেশটিতে আনুমানিক ৩ থেকে ৪ লাখ মসজিদ রয়েছে। ২০ কোটির বেশি মুসলিম জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় চাহিদা মেটাতে ঐতিহাসিক মসজিদ থেকে শুরু করে মহল্লাভিত্তিক ছোট মসজিদ, সবই এখানে দেখা যায়।

৩. বাংলাদেশ : প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার মসজিদ

দক্ষিণ এশিয়ার মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ বাংলাদেশেও রয়েছে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার মসজিদ। তুলনামূলক ছোট আয়তনের হলেও গ্রাম ও শহরজুড়ে ঘন মসজিদ নেটওয়ার্কের কারণে বাংলাদেশকে বিশ্বের অন্যতম মসজিদসমৃদ্ধ দেশ বলা হয়।

৪. সৌদি আরব : প্রায় ৩ লাখ মসজিদ

ইসলামের দুই পবিত্রতম মসজিদ, মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববীর দেশ সৌদি আরবে আনুমানিক ৩ লাখ মসজিদ রয়েছে। পাড়া-মহল্লার ছোট মসজিদ থেকে শুরু করে বিশাল ও ঐতিহাসিক মসজিদ, সবই এই সংখ্যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত।

৫. পাকিস্তান : ১ লাখ ১০ হাজারের বেশি মসজিদ

পাকিস্তানে মসজিদের সংখ্যা এক লাখ ১০ হাজারের বেশি বলে ধারণা করা হয়। দেশটির সামাজিক ও ধর্মীয় জীবনে ইসলামের প্রভাব এই সংখ্যার মধ্যেই স্পষ্ট।

উল্লেখযোগ্য অন্যান্য দেশ

মিসর : ১ লাখের বেশি।
নাইজেরিয়া : প্রায় ৮০ হাজার।
তুরস্ক : প্রায় ৮৫ হাজার।
ইরান : প্রায় ৫৮ হাজার।
আলজেরিয়া : প্রায় ৩০ হাজার।
এই পরিসংখ্যানগুলোর মাধ্যমে বুঝা যায়, মসজিদ শুধু ধর্মীয় স্থাপনা নয়; বরং ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ভৌগোলিক বৈচিত্র্যের প্রতিফলন।

এসব দেশ এগিয়ে কেন?

বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব দেশে মসজিদ বেশি থাকার ক্ষেত্রে তিনটি বিষয় প্রধান ভূমিকা পালন করছে।

প্রথমত : মুসলিম জনসংখ্যার আকার। জনসংখ্যা যত বেশি, মসজিদের সংখ্যাও সাধারণত তত বেশি।
দ্বিতীয়ত : সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। অনেক দেশে মসজিদ সামাজিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হওয়ায় তুলনামূলক ছোট এলাকাতেও একাধিক মসজিদ দেখা যায়।
তৃতীয়ত : ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার। মিসর ও তুরস্কের মতো দেশে শত শত বছরের পুরোনো মসজিদ আজও ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক প্রতীক হয়ে আছে।
মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ নয়, এমন দেশেও মসজিদের বৃদ্ধি

মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর বাইরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপেও মসজিদের সংখ্যা বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রে ২০১০ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে মসজিদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। জার্মানি, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের মতো দেশে হাজার হাজার মসজিদ ও নামাজঘর মুসলিমদের ধর্মীয় ও সামাজিক চাহিদা পূরণ করছে।

এলাকার খবর

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত