রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর প্রায় চার বছর পর, প্রথমবারের মতো ত্রিপক্ষীয় আলোচনায় বসতে যাচ্ছে রাশিয়া, ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্র। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই বৈঠকে অংশ নেবেন তিন দেশের শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি নিউজ এ তথ্য জানায়।
ক্রেমলিন নিশ্চিত করেছে, মস্কোতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের বৈঠকের পরই এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের তিনজন প্রতিনিধি, যাদের মধ্যে ছিলেন স্টিভ উইটকফ ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারাড কুশনার।
রাশিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়, মস্কোর আলোচনা ছিল ‘সব দিক থেকেই ফলপ্রসূ’। তবে ক্রেমলিন স্পষ্ট করেছে, ভূখণ্ডগত বিরোধ নিষ্পত্তি না হলে দীর্ঘমেয়াদি শান্তিচুক্তি সম্ভব নয়।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলদেমির জেলেনস্কি আবুধাবির এই আলোচনাকে যুদ্ধ শেষ করার জন্য একটি আশাব্যঞ্জক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। তবে তিনি স্বীকার করেন, পূর্ব ইউক্রেনের দনবাস অঞ্চল নিয়ে বিরোধ এখনো সবচেয়ে বড় বাধা।
দাভোসে সাংবাদিকদের জেলেনস্কি বলেন, যুদ্ধের মূল ইস্যু এখন ভূখণ্ড বণ্টন। তার মতে, কেবল ইউক্রেন নয়—রাশিয়াকেও সমঝোতায় প্রস্তুত হতে হবে।
রাশিয়ার দাবি, ইউক্রেনকে দোনেৎস্ক অঞ্চলের প্রায় ২৫ শতাংশ এলাকা ছেড়ে দিতে হবে, যা এখনো কিয়েভের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অন্যদিকে, ইউক্রেন দনবাসে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। এছাড়াও শর্ত সাপেক্ষে সেনা প্রত্যাহারের বিনিময়ে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা চায় কিয়েভ।
আবুধাবির বৈঠকে ইউক্রেনের পক্ষে নেতৃত্ব দেবেন দেশটির সামরিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা। রাশিয়ার প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে থাকবেন সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা জিআরইউ’র প্রধান জেনারেল ইগর কোস্তিউকভ। পাশাপাশি অর্থনৈতিক বিষয় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলাদা আলোচনা করবেন রাশিয়ার বিনিয়োগ দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভ।
এদিকে, আলোচনার প্রস্তুতির মধ্যেই উভয় পক্ষ ড্রোন হামলার অভিযোগ করেছে। রাশিয়ার পেনজা অঞ্চলে তেল ডিপোতে আগুন লাগার কথা জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, ইউক্রেনে অন্তত ১২টি স্থানে ড্রোন হামলার খবর দিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী।
সাম্প্রতিক রুশ হামলায় ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তীব্র শীতে বিদ্যুৎহীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন সেখানকার বহু মানুষ।