বিনোদন জগতে তারকাদের মাঝে হঠাৎ করেই যেন অস্থিরতার ছায়া নেমে এসেছে। অল্প সময়ের ব্যবধানে একের পর এক অঘটন ঘটেই চলেছে। এ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে নেটিজেনদের মাঝে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা। নেটিজেনদের মাঝে নানা ঘটনায় প্রশ্ন তুলছে বিনোদন অঙ্গনের ভেতরের বাস্তবতা নিয়ে। তারকা মহলের ঝলমলে আলোর দুনিয়ার আড়ালে এ নিয়েই এখন সরব শিল্পী ও দর্শক মহল।
ঘটনার আলোকে ‘আত্মহত্যা’ করেছেন ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা জাহের আলভীর স্ত্রী ইভনাথ খান ইকরা। এ ঘটনার পর আলভী ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছিলেন— আজ দুপুরে মিরপুর ডিওএইচএসের বাসায় আমার স্ত্রী ইকরা আত্মহত্যা করেছে। আমি বর্তমানে নেপালে শুটিংয়ে। আমি বুঝতে পারছি না, আমাদের সন্তান আর আমার কথা না ভেবে সে কেন এভাবে চলে গেল?
ফেসবুক লাইভে এসে কথা বলেন জাহের আলভী। কারণ শুটিং থেকে তার দেশে ফেরা নিয়ে শুরু হয় ধোঁয়াশা। কোথাও লেখা হতে থাকে, এ অভিনেতা দেশে ফিরে আত্মগোপনে রয়েছেন। আবার শোনা যায়, অভিনেতা স্ত্রীর মুখ দেখবেন না।
নানা আলোচনা–সমালোচনার মধ্যেই আলভী ২৮ মিনিটের ফেসবুক লাইভে জানান, দেশে ফিরলে তিনি মবের শিকার হতেন। তিনি ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও ফিরতে পারেননি। আপনারা বলছেন— যে মানুষটা ভালোবাসার প্রমাণ দিতে গিয়ে আত্মহত্যা করে চলে গেল, শেষবারের মতো তার মুখটা দেখতেও আমি আসলাম না। কিন্তু আপনারা কি আমার দেশে আসার পরিস্থিতি রাখছেন? আমি দেশে আসামাত্রই মব তৈরি হতো। আমাকে টেনেহিঁচড়ে ছিঁড়ে ফেলতেন। আমার ফোনে এ রকম এত এত হুমকি—আমি বলে বোঝাতে পারব না। আর আমি কখনোই বিচ্ছেদ হোক, এমন কিছু চাইনি। আমি নিজেও ব্রোকেন পরিবারে বেড়ে ওঠা।
সামাজিক মাধ্যমে জাহের আলভীর স্ট্যাটাসের পর থেকেই শুরু হয়েছে নেটিজেনদের মাঝে আলোচনা-সমালোচনা। সামনে আসতে থাকে অভিনেতার অপ্রকাশিত অতীতের ঘটনা। নেটিজেনদের অনেকেই পোস্টে মন্তব্য করতে থাকেন, দীর্ঘদিন ধরেই আলভী সহশিল্পী ইফফাত আরা তিথির সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়েছেন। যে কারণে নিয়মিত জুটি হিসেবে তাদের অভিনয় করতে দেখা যায়। এমনকি সহশিল্পী তিথির জন্মদিন ঘিরেই নেপালে শুটিংয়ের পরিকল্পনা করেন তারা। নানা সমালোচনার মধ্যে ইকরার ফেসবুক পেজ উধাও হয়ে যায়। পরে এ অভিনেতা স্ত্রীর জানাজায় না এলে নতুন করে সমালোচনা তৈরি হয়। একসময় মামলাও হয়।
জাহের আলভীর স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরার আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ উঠে অভিনেত্রী ইফফাত আরা তিথির বিরুদ্ধেও। অপমৃত্যু ঘিরে চলমান বিতর্কে অবশেষে মুখ খুলেছেন তিথি। শুরু থেকেই ছড়িয়ে পড়ে এ অভিনেত্রীর সঙ্গে পরকীয়া ছিল জাহের আলভীর।
এ ছাড়া বিনোদন অঙ্গনে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে, তিথির জন্মদিন উদযাপনের উদ্দেশেই নেপালে শুটিংয়ের আয়োজন করা হয়েছিল। এসব ঘটনা অস্বীকার করেন এ অভিনেত্রী। তিনি বুধবার (৪ মার্চ) বিকালে নিজের ফেসবুকে পোস্ট স্ক্রিনশট প্রকাশ করেন। সেখানে তুলে ধরেন, যা ছড়িয়েছে, সেগুলো সত্য নয়। তিনি কখনই আলভী ও ইকরার বিবাহবিচ্ছেদ চাননি; বরং ইকরার সঙ্গে তার সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ ছিল। তিথির দাবি, তাকে নিয়ে ‘ভুল ব্যাখ্যা’ ও ‘অপপ্রচার’ চালানো হচ্ছে। তিনি ফেসবুক স্ট্যাটাসে বলেন, ‘কারও সংসার ভাঙার ইচ্ছা আমার ছিল না। ও কয়েকবারই আমাকে বলেছে— ও আমেরিকা চলে যাবে, আমার রিপ্লাই বরাবরই ছিল— 'এহ, বললেই হবে! চাইলেও যেতে পারবা না, তুমি তাকে ভালোবাসো। তুমি রানি, তুমি তার রানি।' তাহলে তার আত্মহত্যার জন্য উসকানি আমি কেমন করে দেব?
ইকরা আত্মহত্যার ঘটনার মধ্যেই বর্ষীয়ান অভিনেতা ফজলুর রহমান বাবুর অসুস্থতার খবর আসে। গত মাসের মাঝামাঝির দিকে রাত ১২টার দিকে এ অভিনেতার হার্ট অ্যাটাক হয়। গত মাসে এ অভিনেতার ওপেন হার্ট সার্জারি করা হলেও ঘটনা প্রকাশ্যে আসে মঙ্গলবার (৩ মার্চ)। তার অবস্থা কিছুটা গুরুতর হওয়ায় আগামী এক বছর তিনি কোনো অভিনয় করতে পারবেন না—এমন পরিস্থিতির মধ্যে আছেন। শুটিং থেকে দূরে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এ অভিনেতা। বর্তমানে ফজলুর রহমান বাবু বাসায় বিশ্রামে রয়েছেন। এখনো তাকে নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শে থাকতে হচ্ছে।
এদিকে হঠাৎ করে দুই নায়িকার মারামারি। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বিকাল সাড়ে ৪টায় ফেসবুক লাইভে এসে অভিনেত্রী সামিয়া অথই অভিযোগ করে বলেছেন— মানিকগঞ্জে ‘পুতুলের বিয়ে’ নামের একটি নাটকের শুটিং চলাকালে তাকে চড় মেরেছেন অভিনেত্রী তানজিন তিশা। সেদিন সন্ধ্যা থেকেই এ ঘটনা নিয়ে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা–সমালোচনা। অথই তার অভিযোগে আরও বলেন, ‘চিত্রনাট্য অনুযায়ী দৃশ্যটিতে তিশাকে তার একটি চড় মারার কথা ছিল, সেই মতোই তিনি চড়টি মেরেছেন। এরপর তিশা তাকে একাধিক চড় মেরেছেন। চিত্রনাট্যে তিশার চড় মারার কথা ছিল না।'
এ ঘটনা নিয়ে পরে ফেসবুক লাইভ ও গণমাধ্যমে আলাদা করে বক্তব্য দেন অভিনেত্রী তানজিন তিশা। তিনি বলেন, ‘যে ব্যাপারটা ঘটেছে, আমি পুরোপুরি আমার চরিত্রটা প্লে করছি। এখানে আমি একজন স্পেশাল চাইল্ডের চরিত্রে অভিনয় করেছি। যে তার চরিত্রের প্রয়োজনে যে কাউকে মারতে পারে।’
অন্যদিকে প্রায় তিন দশক আগে বিয়ে করেছিলেন গায়ক রবি চৌধুরী ও গায়িকা ডলি সায়ন্তনী। বিয়ের কয়েক বছরের মধ্যেই তাদের বিচ্ছেদ হয়। দীর্ঘদিনের এই বিচ্ছেদ ঘটনা আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই বিবাহবিচ্ছেদ প্রসঙ্গে কথা বলেছেন রবি চৌধুরী। তিনি বলেন, তার সাবেক স্ত্রী বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ায় তাদের ডিভোর্স হয়েছিল। দীর্ঘদিন পর এ ঘটনা সামাজিক মাধ্যমে তুমুল আলোচনা–সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। ভক্তরা কেউ কেউ বিব্রত হয়েছেন, এমন মন্তব্যও করতে থাকেন।
রবি চৌধুরীর এমন মন্তব্যের দুদিন পর মুখ খুলেছেন ডলি সায়ন্তনী। তিনি সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। সেখানে ডলি সায়ন্তনী লিখেছেন, ‘সম্প্রতি আমাদের পরিবার ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে যে বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমরা ইচ্ছাকৃতভাবে বিষয়টি নিয়ে কোনো বিতর্কে যেতে চাই না। সম্মান ও আইনের প্রতি আস্থা রেখে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি এবং ব্যক্তিগত বিষয়কে অযথা আলোচনার বিষয় বানাবেন না।’